আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে খুচরো স্তরে জ্বালানির দাম এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মাঝেও সাধারণ গ্রাহকদের সুরাহা দিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে আজও দেশের বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দামে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি।


বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৮৭.৬৭ টাকা। মুম্বইতে পেট্রল ১০৩.৫০ টাকা এবং ডিজেল ৯০.০৩ টাকা। বেঙ্গালুরুতে পেট্রল ১০২.৯৬ টাকা ও ডিজেল ৯০.০০ দরে বিক্রি হচ্ছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১০৫.৪১ এবং ডিজেল ৯২.০২ টাকা। চেন্নাইতে পেট্রল ১০০.৯০ টাকা  এবং ডিজেল ৯২.৪৯ টাকা। এছাড়া লখনউতে পেট্রোল ৯৪.৬৯ টাকা ও ডিজেল ৮৭.৮১ টাকা এবং হায়দরাবাদে পেট্রল ১০৭.৫০ টাকা ও ডিজেল ৯০.০৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। হরমুজ পুনরায় খুলে যাওয়ার পর এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিতের জেরে তেলের দাম হঠাৎ করেই কমে গেছে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রুড তেল প্রায় ৯.১% কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। 


শুধু তেল নয়, ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। বেঞ্চমার্ক গ্যাসের দাম প্রায় ১০% কমে মেগাওয়াট-ঘণ্টা প্রতি প্রায় ৩৯ ইউরোতে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


অন্যদিকে ভারতে এলপিজি চাহিদা গ্রীষ্মকালে কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। জয়েন্ট সেক্রেটারি সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে এলপিজি বুকিং কমে ৪৬ থেকে ৫০ লক্ষের মধ্যে রয়েছে, যা আগে ৫০ লক্ষের বেশি ছিল। গরমের সময়ে সাধারণত এলপিজি ব্যবহার কমে যাওয়ায় এই পতন স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছে।


তবে চাহিদা কমলেও সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই বলে সরকার আশ্বস্ত করেছে। দেশজুড়ে এলপিজি, পেট্রোল এবং ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনও ঘাটতির খবর পাওয়া যায়নি।


পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা সতর্ক করেছে, প্রয়োজনে আবার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

 


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হলেও মার্কিন নৌ অবরোধ আপাতত জারি থাকবে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও ভারতীয় বাজারে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।