আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়াতে চলতি যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্রভাবে অনুভূত হলেও ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দামে আপাতত বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। শুক্রবার, ২০ মার্চ দেশের বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দাম প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলির স্থিতিশীলতার ধারাকেই বজায় রেখেছে।


বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। 


এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২.৩৫ বাড়ানো হয়েছে। তবে সাধারণ পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। 


বর্তমানে প্রধান শহরগুলিতে জ্বালানির দাম নিম্নরূপ:
দিল্লিতে পেট্রল ৯৪.৭৭ ও ডিজেল ৮৭.৬৭, মুম্বইয়ে পেট্রল ১০৩.৫৪ ও ডিজেল ৯০.০৩, কলকাতায় পেট্রল ১০৫.৪৫ ও ডিজেল ৯২.০২, চেন্নাইয়ে পেট্রোল ১০০.৮৪ ও ডিজেল ৯২.৩৯। এছাড়া হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, লখনউ ও আহমেদাবাদেও দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।


প্রতিদিন সকাল ৬টায় আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রুড তেলের দাম ও টাকা বিনিময় হারের ভিত্তিতে জ্বালানির দাম সংশোধন করা হয়। তবুও প্রশ্ন উঠছে—বিশ্ববাজারে এত অস্থিরতার মাঝেও ভারতে কেন জ্বালানির দাম স্থির?


বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একটি “শক অ্যাবজর্বার” কৌশল। অর্থাৎ, তেল বিপণন সংস্থাগুলি ও সরকার মিলে আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা সরাসরি খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হতে দেয় না। এতে স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায় এবং মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে রক্ষা পায়।


তবে এই ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়ে, যা ভবিষ্যতে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সরকারের কর কাঠামোও জ্বালানির দামের উপর বড় ভূমিকা রাখে।

 

&t=4s
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ সঙ্কটের প্রভাব সত্ত্বেও ভারতের জ্বালানি বাজার আপাতত স্থির রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থিতিশীলতা কতদিন বজায় থাকবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর।