আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার উত্তেজনা কিছুটা কমতেই বিশ্ববাজারে বড় স্বস্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করতেই তেলের দামে তীব্র পতন দেখা গেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে প্রায় ৯৫ ডলার প্রতি ব্যারেলে, যা আগের দিনের প্রায় ১১০ ডলার থেকে অনেকটাই কম।
একইভাবে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডেট ক্রুডের দামও প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত কমে যায়।
এই পতনের মূল কারণ, বহুল গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা। এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকলে বা ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম কমার পাশাপাশি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারে উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জেরে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলি বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়, বীমা খরচ বেড়ে যায় এবং সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মার্চ মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়—যা ইতিহাসে অন্যতম বড় মাসিক উত্থান।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়তে থাকে এবং সরকার ও সংস্থাগুলি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব কার্যকর হতে পারে। পাল্টা হিসেবে ইরান জানিয়েছে, হামলা বন্ধ থাকলে তারা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
এই ঘোষণাগুলি বাজারে আতঙ্ক কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে আসতে শুরু করেছেন, যা তেলের দামে পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই স্বস্তি সাময়িকও হতে পারে। কারণ যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য এবং তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
&t=546s
সব মিলিয়ে, আপাতত বিশ্ববাজারে তেলের চাপ কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী যে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট হয়তো এড়ানো সম্ভব। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে চলতি কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্যের ওপর।















