আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে একটি বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির স্বাক্ষরের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি উভয় অর্থনীতির জন্য বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অগ্রগতি হতে পারে। মঙ্গলবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন।
মঙ্গলবার দাভোসে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে উরসুলা বলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। কিন্তু আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। কেউ কেউ এটিকে সকল চুক্তির সেরা চুক্তি (মাদার অফ অল ডিল) বলে অভিহিত করছেন। এটি ২০০ কোটি মানুষের জন্য একটি বাজার তৈরি করবে, যারা বিশ্ব জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশে অবদান রাখেন।” তিনি আরও বলেন, “আর দাভোসের ঠিক পরেই, পরের সপ্তাহের শেষ আমি ভারতে যাব।”
দাভোসের এই বিবৃতিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আলোচনা শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই বিষয়ে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আলোচনাটি নতুন গতি লাভ করেছে। বেশ কয়েকটি দেশের অর্থনীতির মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, ওষুধ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে চাইছে।
চলতি মাসের শুরুতে বিদেশ মন্ত্রকের কর্তৃক জারি করা একটি বিবৃতি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কোস্তা এবং প্রেসিডেন্ট ভন ডের লেয়েন ২০২৬ সালের ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত সফরে আসবেন। এই দুই নেতা ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এই সফরে ইউরোপীয় নেতারা ২৭ জানুয়ারি ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সহ-সভাপতিত্ব করবেন। তাঁদের ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সীমিত ও প্রতিনিধিদল-স্তরের আলোচনা করার কথা রয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি একটি ভারত-ইইউ বিজনেস ফোরামও আয়োজিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা শিল্পপতিদের নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ অন্বেষণের জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।
এই চুক্তি সফল হলে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। এটি পণ্য, পরিষেবা এবং বিনিয়োগের ধারাকে আরও গভীর করবে। বিশ্বের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই বাজার এই চুক্তিটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্যিক কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
