আজকাল ওয়েবডেস্ক: হোম লোনের একটি ইএমআই মিস করা অনেক সময়ই একটি সাধারণ রিমাইন্ডার মেসেজ দিয়ে শুরু হয়। অনেক ঋণগ্রহীতা ভাবেন, “এই মাসটা না দিতে পারলে পরের মাসে দু’টো একসঙ্গে দিয়ে দেব, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু এক বা দুই মাসের বেশি দেরি হলে বিষয়টি দ্রুতই গুরুতর আর্থিক ও আইনি সমস্যায় রূপ নিতে পারে। শুরুতে যে বিষয়টি কেবল ফোন কল বা এসএমএসে সীমাবদ্ধ থাকে, তা পরে ক্রেডিট স্কোরের ক্ষতি, আইনি নোটিস এমনকি সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতেও পৌঁছাতে পারে—যদি সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।


সাধারণত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান প্রথম ইএমআই মিসকে সরাসরি ‘ডিফল্ট’ হিসেবে গণ্য না করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে। এই সময় ব্যাংক বা হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানির পক্ষ থেকে ফোন, ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করার অনুরোধ জানানো হয়। উদ্দেশ্য হল ঋণগ্রহীতাকে মনে করিয়ে দেওয়া এবং অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করতে সহায়তা করা।


কিন্তু পরপর দ্বিতীয় ইএমআই মিস হলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তখন ঋণটি ‘ওভারডিউ’ বা বকেয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়। ঋণদাতারা আরও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলো-আপ শুরু করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এই বিলম্বের তথ্য ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয়। এর ফলে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট প্রোফাইলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।


পরপর তিনটি ইএমআই মিস করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা। নিয়ন্ত্রক বিধি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ঋণ বকেয়া থাকলে সেটি ‘নন-পারফর্মিং অ্যাসেট’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। একবার ঋণ এনপিএ হলে ঋণদাতা আনুষ্ঠানিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, যার মধ্যে আইনি নোটিস পাঠানো এবং প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।


বারবার ইএমআই মিস করার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ক্রেডিট স্কোরে। ভারতে ক্রেডিট রিপোর্ট সংস্থা যেমন সিবিলে ডিফল্টের তথ্য রিপোর্ট হলে ঋণগ্রহীতার স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ির ঋণ বা নতুন হোম লোন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমনকি ক্রেডিট কার্ড অনুমোদনেও সমস্যা হতে পারে।


শুধু বকেয়া ইএমআই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ। দেরিতে পরিশোধের জন্য পেনাল ইন্টারেস্ট, লেট ফি এবং প্রশাসনিক চার্জ আরোপ করা হয়। এই অতিরিক্ত খরচগুলো বকেয়া টাকার সঙ্গে জমতে থাকে, ফলে মোট ঋণের বোঝা আরও বাড়ে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিলেই ঋণদাতাকে দ্রুত জানানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শুরুতেই যোগাযোগ করলে অনেক সময় রিস্ট্রাকচারিং, ইএমআই কমানো, লোন টেনিউর বাড়ানো বা অস্থায়ী মোরাটোরিয়ামের মতো বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু নোটিস উপেক্ষা করলে বা যোগাযোগ এড়িয়ে গেলে বিকল্পের সুযোগ কমে যায় এবং আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ে।

 

&t=122s
একটি ইএমআই মিস করলেই যে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে, তা নয়। তবে বারবার ডিফল্ট করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া, ঋণদাতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন হলে পুনর্গঠন সুবিধা নেওয়াই সাময়িক আর্থিক সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।