আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের রেকর্ড, চার বছরের মধ্যে ডলারে তুলনায় ভারতীয় রুপির এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতন। সোমবার (২৩শে মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি-র দর ৯৩.৮৩। ফলে রুপির দুর্বলতা আরও দীর্ঘায়িত হল।
গত সেশনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির ১.২ শতাংশ দরপতন ঘটে। যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। অফশোর বা বৈদেশিক বাজারে রুপির দর ইতিমধ্যেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯৪-এর স্তর অতিক্রম করে গিয়েছিল, যা মুদ্রার ওপর অব্যাহত চাপের ইঙ্গিত।
দিনের শুরুর দিকে 'নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ডস' (এনডিএফ) বাজারের দরগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, রুপির লেনদেন ৯৩.৭৮ থেকে ৯৩.৮২-এর সীমার মধ্যে শুরু হতে পারে।
এদিকে, অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া অবস্থাতেই রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের উপরে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি। যা ভারতের আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ব্লুমবার্গের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী- ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের 'নেট শর্ট ডলার পজিশন', যা মূলত তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অগ্রিম বিক্রয়কে প্রতিফলিত করে - তা অনশোর ও অফশোর বাজার মিলিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহার বা বহিঃপ্রবাহও রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুনিয়াব্যাপী বিনিয়োগ তহবিলগুলো প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এই পরিমাণ গত বছর হওয়া মোট ১৯ বিলিয়ন ডলারের বহিঃপ্রবাহের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া, মার্চ মাসে 'ইনডেক্স-এলিজিবল বন্ড' বা সূচকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য বন্ডগুলো থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা এই খাতে এক মাসে সর্বোচ্চ বিক্রয়ের একটি নতুন রেকর্ড গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
