আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয়রা একটি নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করতে বেশি পছন্দ করেন। সেখানে ঝুঁকির পরিমান যতটা কম থাকে ততটাই তারা বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে থাকেন। তবে এই ধারাতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। 


এক সময় ভারতীয় মধ্যবিত্তের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ ছিল ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট। মূলধন সুরক্ষা, নির্দিষ্ট সুদ এবং ঝুঁকিহীন রিটার্ন—এই তিন কারণেই ফিক্সড ডিপোজিটই  ছিল প্রথম পছন্দ। কিন্তু গত কয়েক বছরে ছবিটা বদলাচ্ছে। ক্রমশ বেশি মানুষ ফিক্সড ডিপোজিট থেকে টাকা সরিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি-তে ঝুঁকছেন। কেন এই পরিবর্তন?

 

প্রথম কারণ, সুদের হার ও বাস্তব রিটার্ন। ব্যাঙ্কগুলোর ফিক্সড ডিপোজিট সুদ অনেক সময় মুদ্রাস্ফীতির হারের সমান বা তার চেয়েও কম থাকে। ফলে হাতে পাওয়া সুদ প্রকৃত অর্থে ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারে না। বিপরীতে, ইকুইটি-ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন দিয়েছে। বিশেষ করে গত এক দশকে ভারতের শেয়ারবাজারে উত্থান, কর্পোরেট আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ অনেক বিনিয়োগকারীকে ইকুইটি বাজারমুখী করেছে।


দ্বিতীয় কারণ, নিয়মিত ছোট বিনিয়োগের সুবিধা। এসআইপি-তে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগ করা যায়। এতে বড় অঙ্কের টাকা একবারে লাগাতে হয় না। বাজার পড়লে কম দামে বেশি ইউনিট কেনা যায়, আর বাজার বাড়লে ইউনিটের মূল্য বাড়ে—এই ‘রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং’ সুবিধা ফিক্সড ডিপোজিটে নেই। ফলে তরুণ চাকরিজীবী ও নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে এসআইপি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

 

তৃতীয়ত, করের সুবিধা। ফিক্সড ডিপোজিটে সুদ সম্পূর্ণ করযোগ্য, এবং উচ্চ কর স্ল্যাবে থাকলে নিট রিটার্ন কমে যায়। অন্যদিকে, ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভে তুলনামূলক কম কর প্রযোজ্য। 


চতুর্থ কারণ, ডিজিটাল সহজলভ্যতা। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপের মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই এসআইপি শুরু করা যায়। কেওয়াইসি, ফান্ড নির্বাচন, অটো-ডেবিট—সবকিছুই এখন সহজ। ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ায় ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও মিউচুয়াল ফান্ডে অংশগ্রহণ বেড়েছে।
পঞ্চমত, আর্থিক সচেতনতার বৃদ্ধি। সোশ্যাল মিডিয়া, ফিনান্সিয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ও বিনিয়োগ-বিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে মানুষ এখন ঝুঁকি ও রিটার্নের সম্পর্ক সম্পর্কে বেশি সচেতন। শুধু নিরাপত্তা নয়, সম্পদ বৃদ্ধিও যে জরুরি—এই উপলব্ধি বাড়ছে। অবসর পরিকল্পনা, সন্তানের পড়াশোনা বা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য এসআইপি-কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।


তবে ঝুঁকির বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। শেয়ারবাজারে ওঠানামা থাকে, এবং স্বল্পমেয়াদে ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সব সঞ্চয় এসআইপি-তে সরিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিওর পরামর্শ দেন—এক অংশ নিরাপদ উপকরণে, আর এক অংশ বৃদ্ধিমুখী বিনিয়োগে।

 

&t=1s
সব মিলিয়ে, কম সুদের পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রিটার্নের প্রত্যাশা, কর সুবিধা ও ডিজিটাল সুবিধার সমন্বয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে ফিক্সড ডিপোজিট থেকে এসআইপি-র দিকে ঝুঁকছেন। এটি শুধু বিনিয়োগের ধরন বদলের গল্প নয়, বরং আর্থিক মানসিকতার পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত।