আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতার মাঝেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনও উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সরকারি সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, দেশের কাছে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের ক্রুড অয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই।


মধ্য এশিয়াতে চলা উত্তেজনা এবং বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মধ্যেই জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।


সরকারি আধিকারিকদের মতে, ভারত তার কৌশলগত মজুত এবং নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রেখেছে। দেশের বিভিন্ন স্টোরেজ সুবিধায় ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও বিঘ্ন ঘটলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহে বড় প্রভাব পড়বে না।


ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা বেশি। তাই ওই অঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দিলেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এবার সরকার আগেভাগেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।


একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বৈচিত্র্য বাড়ানোর ফলে নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ দিনের মজুত থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বা সরবরাহে তাত্ক্ষণিক বড় ধাক্কা লাগে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি খারাপ হলে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।


সরকার আরও জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 


সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনও তাৎক্ষণিক সঙ্কট নেই বলেই আশ্বাস দিয়েছে সরকার। যদিও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি, তবুও আপাতত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তির বার্তা মিলেছে।