আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তোশাখানা। সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ সফর ও কূটনৈতিক বৈঠকে বিভিন্ন দেশ ও বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহার ও স্মারকের প্রায় ৩০০টি সামগ্রী এবার অনলাইন নিলামের মাধ্যমে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পদক্ষেপকে সরকারি উপহার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশোধিত তোশাখানা রুলস, ২০২৪ কার্যকর হওয়ার পরই প্রথমবার জনসাধারণের জন্য এই নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ জুন থেকে শুরু হওয়া ই-নিলাম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। আগ্রহীরা অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী, কূটনৈতিক এবং সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর জন্য দরপত্র জমা দিতে পারবেন। নিলামে অংশ নেওয়া সামগ্রীর সংরক্ষিত বা রিজার্ভ মূল্য শুরু হচ্ছে মাত্র ২,৩৮৫ টাকা থেকে।
এই নিলামে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ি। প্রতিটি ঘড়ির রিজার্ভ মূল্য প্রায় ১৬.৫ লক্ষ টাকা। বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের দাবি, নিলাম শুরু হওয়ার পর থেকেই এই ঘড়ি দুটির জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছে এবং একাধিক বিড জমা পড়েছে।
শুধু রোলেক্স ঘড়িই নয়, নিলামে রয়েছে ওমান থেকে পাওয়া রুপোর তৈরি অলঙ্কৃত ছুরি, লন্ডনে নির্মিত স্টার্লিং সিলভারের চা-সেট, একটি ম্যাকবুক, বিভিন্ন রুপোর শৌখিন সামগ্রী, সোনার গয়না এবং নানা ধরনের সংগ্রহযোগ্য স্মারক। এছাড়া একটি বিশেষ রুপোর বাক্স, যার গায়ে সোনালি ড্রাগনের নকশা রয়েছে এবং যার ভিতরে ২০ গ্রাম ওজনের একটি সুইস সোনার বিস্কুট রাখা আছে, সেটিও নিলামে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই সামগ্রীর দর ইতিমধ্যেই রিজার্ভ মূল্য ছাড়িয়ে গিয়েছে।
নিলামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ১৯৮০-র দশকের একটি প্রাচীন রুপোর বাক্স, যা একসময় বিলাসবহুল সিগার বা সিগারেট রাখার কেস হিসেবে ব্যবহার করা হত। সংগ্রাহকদের মধ্যে এই সামগ্রীটি নিয়েও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা গিয়েছে এবং এর জন্যও একাধিক উচ্চমূল্যের বিড জমা পড়েছে।
তবে সব মূল্যবান সামগ্রী একইভাবে ক্রেতাদের আগ্রহ পায়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯.৫ লক্ষ টাকা রিজার্ভ মূল্যের কুয়েত থেকে পাওয়া সোনার গয়নার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও দর জমা পড়েনি।
বিদেশ মন্ত্রকের এস্টাবলিশমেন্ট ডিভিশনের তোশাখানা শাখা এই নিলামের আয়োজন করছে। প্রতিটি সামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করেছে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি। সামগ্রীর মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি প্যাকিং ও পরিবহণের খরচও চূড়ান্ত মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ ভারতের সংযুক্ত তহবিলে জমা করা হবে। বর্তমানে শুধুমাত্র বিদেশ সচিব এবং তাঁর নিচের পদমর্যাদার সরকারি আধিকারিকদের বিদেশ সফরে পাওয়া উপহারগুলিই নিলামে তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রাক্তন ও বর্তমান বিদেশমন্ত্রীদের প্রাপ্ত উপহারও এই নিলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, তোশাখানা হল এমন একটি সরকারি সংগ্রহশালা, যেখানে বিদেশি সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকরা যে উপহার ও স্মারক পান, সেগুলি সংরক্ষণ করা হয়। এই সংগ্রহের অধিকাংশ সামগ্রী ঐতিহ্যবাহী, শৌখিন ও সংগ্রহযোগ্য হলেও সেগুলি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। প্রথমবারের মতো এই সংগ্রহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় ইতিহাসপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।















