আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করেছে টেলিকম বিভাগ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবার শুধু সরকারি বা পাবলিক সেক্টরের কর্মকর্তারাই নন, বেসরকারি খাতের যোগ্য প্রার্থীরাও এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।


গত প্রায় দুই বছর ধরে এখানে কোনও পূর্ণকালীন সিএমডি নেই। সংস্থার প্রাক্তন সিএমডি পি. কে. পুরওয়ারের মেয়াদ ১৪ জুলাই ২০২৪-এ শেষ হওয়ার পর থেকে স্থায়ী নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর টেলিকম বিভাগের কর্মকর্তা রবার্ট জে. রাভিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সিএমডি পদে নিয়োগ করা হয়। ১৫ জুলাই ২০২৪ থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন এবং একাধিকবার তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁর মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে।


বুধবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে টেলিকম বিভাগ জানিয়েছে, পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস সিলেকশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি সার্চ-কাম-সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত।


গত বছরও প্রায় ১০ জন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই এই পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়নি। ফলে আবারও নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
যোগ্যতার ক্ষেত্রে টেলিকম বিভাগ বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রেখেছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অথবা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের এমবিএ বা ম্যানেজমেন্টে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী হতে হবে। প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ৪৫ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স ৫৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।


বেসরকারি খাতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে এমন কোনও প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হবে বা করে থাকতে হবে, যার বার্ষিক টার্নওভার অন্তত ২,০০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি আবেদনকারীর বোর্ড-স্তরের পূর্ণকালীন পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় সরকার, পাবলিক সেক্টর ইউনিট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা রাজ্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও আবেদন করতে পারবেন, যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ২,০০০ কোটি টাকার বেশি হয়।


এদিকে BSNL-এর আর্থিক পরিস্থিতি বর্তমানে উদ্বেগজনক। সংস্থাটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ১,২৬৯ কোটি টাকার নিট লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ২৮০ কোটি টাকার নিট মুনাফা হয়েছিল। একই সময়ে সংস্থার পরিচালন আয় ১৪ শতাংশ কমে ৫,৭২১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।


পুরো অর্থবর্ষে লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৩৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ২,২৪৭ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও পরিচালন আয় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২১,১৯৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, তা সত্ত্বেও DoT-এর সঙ্গে নির্ধারিত ২৮,৪৭৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পূর্ণকালীন সিএমডি নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নেতৃত্ব সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।