ভুল বা অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয় সকলকেই। ভারতের আইন সবার জন্যই সমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ দেশে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের পুলিশ ছুঁতেও পারে না, দেশের কোনও আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে না।
2
12
শুনতে অবাক লাগলেও, ভারতীয় সংবিধানেই লুকিয়ে রয়েছে এর নেপথ্য কারণ।
3
12
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যের রাজ্যপালেরা তাঁদের কার্যকালের মেয়াদে বিশেষ কিছু আইনি সুরক্ষা বা 'ইমিউনিটি' পেয়ে থাকেন।
4
12
সংবিধানের ৩৬১ নম্বর অনুচ্ছেদে এই বিশেষ ব্যবস্থার কথা স্পষ্ট করে বলা আছে।
5
12
রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজ্যপ্রধানেরা যাতে কোনও রকম আইনি চাপ বা ভয় ছাড়া নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্যই এই আইনি 'রক্ষাকবচ'।
6
12
রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল পদে থাকাকালীন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আদালত বা থানায় কোনও রকম ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। এমনকী আগের কোনও মামলা থাকলেও, তা স্থগিত থাকবে।
7
12
তাঁরা পদে আসীন থাকাকালীন দেশের কোনও আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে না। তাঁদের কারাদণ্ডের নির্দেশও দেওয়া সম্ভব নয়।একেবারেই নয়।
8
12
এই বিশেষ অধিকার শুধুমাত্র তাঁদের পদে থাকার সময়টুকুর জন্যই প্রযোজ্য। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে বা পদ থেকে সরে দাঁড়ালে তাঁরাও আর পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের মতোই আইনের আওতায় চলে আসেন।
9
12
তখন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে আর কোনও বাধা থাকে না। অর্থাৎ, তাঁরা কেউই আজীবন আইনের ঊর্ধ্বে নন।
10
12
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, দেশের উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক কিংবা বিচারপতিদের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম খাটে? উত্তর হল- না। তাঁদের ক্ষেত্রে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি সুরক্ষা নেই।
11
12
নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়ম মেনে ফৌজদারি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব।
12
12
সংবিধানের এই ধারা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, ভারতে কেউই আইনের বাইরে নন। রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের এই বিশেষ ছাড় আসলে কোনও ব্যক্তিবিশেষের ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং তাঁদের পদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা মাত্র।