ভারতে সাপের কামড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ রাসেলস ভাইপার। বিষধর এই সাপকে অনেকেই চেনেন না, আবার অনেকেই এর উপস্থিতি টের পান তখনই, যখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসেলস ভাইপারের একটি বিশেষ সতর্কবার্তা রয়েছে, যাকে অনেকেই ‘Whistle of Death’ বা ‘মৃত্যুর শিস’ বলে থাকেন। এই তীব্র ফোঁসফোঁস শব্দকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
2
12
রাসেলস ভাইপার সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়। কিন্তু নিজেকে বিপদের মুখে পড়েছে বলে মনে করলে এটি শরীর কুণ্ডলী পাকিয়ে জোরে ফোঁসফোঁস শব্দ করতে শুরু করে।
3
12
এই শব্দই মূলত মানুষকে দূরে সরে যাওয়ার শেষ সতর্কবার্তা। দুর্ভাগ্যবশত, অনেকেই এই শব্দকে গুরুত্ব না দিয়ে আরও কাছে চলে যান, যার ফল হতে পারে প্রাণঘাতী।
4
12
ভারতের গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি, ঝোপঝাড় এবং ঘাসে ঢাকা এলাকায় রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বর্ষাকাল এবং ফসল কাটার সময় এই সাপের সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ে। রাতে চলাফেরা করার সময় বা খালি পায়ে মাঠে নামলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
5
12
রাসেলস ভাইপারের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী। এই বিষ মানুষের রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে কিডনি বিকল হওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, শক এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর আশঙ্কাও তৈরি হয়।
6
12
সাপটি কামড়ানোর পর প্রথমদিকে তীব্র ব্যথা, দ্রুত ফুলে যাওয়া, রক্তক্ষরণ, বমি, মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
7
12
পরে শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই সাপের কামড়কে কখনও সাধারণ ঘটনা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।
8
12
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি কোথাও হঠাৎ জোরে ফোঁসফোঁস শব্দ শোনা যায় এবং আশপাশে সাপ থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হবে। সাপটিকে মারার বা ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়। বরং শান্তভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
9
12
যদি রাসেলস ভাইপার বা অন্য কোনও বিষধর সাপ কামড়ায়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
10
12
আক্রান্ত অঙ্গ যতটা সম্ভব স্থির রাখতে হবে এবং কোনওভাবেই ক্ষতস্থান কেটে বিষ বের করার চেষ্টা, শক্ত করে বেঁধে রাখা বা ঘরোয়া চিকিৎসার উপর নির্ভর করা উচিত নয়। এসব পদ্ধতি বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
11
12
ভারতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর জন্য রাসেলস ভাইপার দায়ী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং সাপের সতর্ক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়াই প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
12
12
মনে রাখবেন, রাসেলস ভাইপারের সেই তীক্ষ্ণ ফোঁসফোঁস শব্দ কেবল একটি আওয়াজ নয়—এটি বিপদের শেষ সতর্কবার্তা। সেই সংকেত উপেক্ষা করলে দ্বিতীয় সুযোগ নাও মিলতে পারে।