আজকাল ওয়েবডেস্ক: মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রির ক্ষেত্রে কর হিসাব অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেই জটিল মনে হয়। বিশেষত, একই ফান্ডে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দামে ইউনিট কেনা- বেচার ক্ষেত্রে কোন ইউনিট কখন বিক্রি হয়েছে তা নির্ধারণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে নির্ভর করছে বিক্রির লাভটি শর্ট-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন হবে নাকি লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন।
ভারতীয় কর কাঠামো অনুযায়ী—আপনি যদি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ১২ মাসের বেশি সময় ধরে ধরে রাখেন, এবং তখন বিক্রি করেন, তবে লাভের ওপর ট্যাক্স দিতে হয়। আর ১২ মাসের কম সময়ে বিক্রি করলে ট্যাক্স বসে।
সমস্যা হচ্ছে, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী একই ফান্ডে ধাপে ধাপে এসআইপি পদ্ধতিতে একাধিকবার ইউনিট কেনেন, আবার বিক্রিও করেন আংশিকভাবে। তখন প্রশ্ন ওঠে—যে ইউনিট এখন বিক্রি হল, সেটা কোন তারিখে কেনা ইউনিট?
এখানেই ব্যবহৃত হয় ফিফো পদ্ধতি— অর্থাৎ আগে কেনা ইউনিট আগে বিক্রি হয়েছে বলে ধরা হয়। এই পদ্ধতি শেয়ার মার্কেটেও বহুল প্রচলিত এবং মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রির ক্ষেত্রেও এটি অনুসরণ করা হয়।
কেন ফিফো পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ?
(১) হোল্ডিং পিরিয়ড নির্ধারণ:
কোন ইউনিট কতদিন ধরে রাখা হয়েছে—তা বের করা সম্ভব। এতে বোঝা যায় সেটা কোন ধরণের করের আওতায় পড়বে।
(২) কস্ট অব অ্যাকুইজিশন:
যে ইউনিট বিক্রি হল তার ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ফিফো অনুসারে। এতে ক্যাপিটাল গেইন সঠিকভাবে হিসাব করা যায়।
কোথায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়?
বিভ্রান্তি সাধারণত তখনই হয়, যখন বিনিয়োগকারী দুই বছর ধরে নিয়মিত এসআইপি চালিয়ে গেছেন এবং বিভিন্ন ইউনিট জমা হয়েছে। তখন কোন দামের ইউনিট বিক্রি হল তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফিফো পদ্ধতি এই জটিলতা দূর করে, হিসাবকে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করে।
অতএব, মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিফো একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি, যা কর পরিকল্পনা, রেকর্ড মেইনটেনেন্স এবং লাভের হিসাবকে সহজ করে তোলে। যারা মিউচুয়াল ফান্ডে সদ্য বিনিয়োগ করেছেন তাদের কাছেও এটি হতে পারে এতটি বিরাট সুবিধা। তারা শুরু থেকেই যদি ফিফোকে মেনে চলতে পারেন তাহলে সেখান থেকে তাদের করের দিকটি তারা অতি সহজেই জানতে পারবেন। সেখানে বিশেষ ভুল হওয়ার কোনও জায়গা থাকবে না।
