আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের অর্থনীতিতে দু'টি সম্পূর্ণ বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিভ্রান্ত অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা। একদিকে, ডিজিটাল পেমেন্টের বাড়বাড়ন্ত, ডিজিটাল লেনদেন প্রতি মাসে রেকর্ড ভাঙছে। অন্যদিকে, কিছুতেই কমছে না নগদের ব্যবহার। উল্টে নগদে লেনদেনের ব্যবহার বাড়ছে। 

এসবিআই রিসার্চের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ভারতে মোট নগদ অর্থ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অঙ্ক, গত বছরের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বেশি। আরও আশ্চর্যজনক বিষয় হল, জনগণের কাছে থাকা নগদ (কারেন্সি উইথ দ্য পাবলিক, সংক্ষেপে- সিডব্লিউপি) ৩৯ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা রেকর্ড। এই অঙ্ক মোট প্রচলনযোগ্য অর্থের প্রায় ৯৭.৬ শতাংশ।

সহজ ভাষায বললে, ৩৯ লক্ষ কোটি টাকা মানুষের পকেটে, আলমারি এবং বাড়িতে পড়ে রয়েছে।

একদিকে ডিজিটাল পেমেন্টের বৃদ্ধি, অন্যদিকে নগদ অর্থের প্রচোলন: অর্থনৈতিক বিরোধ
‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র যুগে, যেখানে পানের দোকানে কিউআর কোড স্ক্যান করে ৫ টাকা পরিশোধ করা হয়, সেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ কোটি টাকার নগদ উপস্থিতি একটি অর্থনৈতিক ধাঁধা। ইউপিআই লেনদেন প্রতি মাসে ২৮.৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা মোট নগদ অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ।

সাধারণত ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহার হ্রাস পাওয়া উচিত। তবে, ভারতে বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে, আশার আলোও রয়েছে। নগদ-জিডিপি অনুপাত ১৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশ হয়েছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে- অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ডিজিটাল লেনদেনের অংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগদ অর্থ অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ছাড়িয়ে না গিয়ে তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে।

নগদের ব্যবহার কেন বাড়ছে?
এর বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। অন্যতম প্রধান কারণ হল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, কর্নাটকের প্রায় ১৮,০০০ ছোট ব্যবসায়ী তাদের ইউপিআই লেনদেনের ভিত্তিতে  জিএসটি নোটিশ পেয়েছিলেন। এই ঘটনার পর, অনেক ব্যবসায়ী ইউপিআই পেমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করে দেন। বদলে নগদের উপর জোর দিতে শুরু করেন। ফলস্বরূপ, কর্নাটকে এটিএম থেকে তোলার পরিমাণ প্রতি মাসে প্রায় ৩৭ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

ব্যাঙ্কের সুদের হার কম হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক মানুষের কাছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, ব্যাঙ্কে টাকা জমা করার চেয়ে নগদ টাকা রাখা নিরাপদ এবং সুবিধাজনক। আজও, গ্রামীণ ভারতের বৃহৎ অংশে, নগদ অর্থ আর্থিক শক্তি এবং সুরক্ষার চূড়ান্ত রূপ।

৫০০ টাকার নোটে লেনদেন
গোলাপী ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে, ৫০০ টাকার নোট ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। বর্তমানে, নগদ লেনদেনের ৮৬ শতাংশ হয় ৫০০ টাকার নোটে।

আরবিআই ব্যাঙ্কগুলিকে এটিএমগুলি-তে ১০০ এবং ২০০ টাকার নোটের প্রাপ্যতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। 

একদিকে ডিজিটাল পেমেন্টের বৃদ্ধি ঘটছে, অন্যদিকে নগদ অর্থের প্রচোলনও বেশি- বিষয়টি ভারতীয় অর্থনীতির আকর্ষণীয় অংশ।