আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সূত্রের খবর, বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতীয় অর্থনীতি একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপ, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়ছে।
সূত্রের দাবি, বিদেশি মূলধন প্রবাহ বাড়ানো, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং ঋণ বাজারে তারল্য বৃদ্ধি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রিসভা এই পরিবর্তন কার্যকর করতে আয়কর আইন সংশোধনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারির অনুমোদনও দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
বর্তমানে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত শেয়ার ও বন্ডে ১২ মাসের বেশি সময় বিনিয়োগ ধরে রাখলে ১২.৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর দিতে হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাভের উপর আর কোনও মূলধনী লাভ কর ধার্য করা হবে না।
শুধু তাই নয়, সরকারি বন্ড থেকে অর্জিত সুদের আয়ের উপর করের বোঝাও কমানোর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারি বন্ডের সুদের আয়ের উপর ২০ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হয়। এর আগে ৫ শতাংশের একটি রেয়াতি করহার চালু থাকলেও ২০২৩ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান কর কাঠামো ভারতের সরকারি বন্ডকে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় কম আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। ফলে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী ভারতীয় ঋণ বাজারে আগ্রহ হারিয়েছিলেন। নতুন কর ছাড় সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
চলতি বছরে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। ২০২৬ সালকে বিদেশি তহবিল প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম খারাপ বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে রুপির উপর চাপ বেড়েছে এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ কমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী হবে, ঋণ বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং টাকার মান ধরে রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎসও তৈরি হবে।
অপরিশোধিত তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এটি হতে পারে আরও কয়েকটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সূচনা।
&t=1s
বাজার এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এবং সম্ভাব্যভাবে আরবিআই-র পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর সংস্কার, যা ভারতের আর্থিক বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।















