আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিদেশি বিনিয়োগ এবং একই সঙ্গে টাকার ওপর চাপ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। শুক্রবার এক অধ্যাদেশ জারি করে সরকার ঘোষণা করেছে, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি মূলধনী লাভের ওপর আর কোনও কর দিতে হবে না। পাশাপাশি সরকারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের ওপর যে উইথহোল্ডিং ট্যাক্স বা উৎসে কর কাটা হত, সেটিও সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র অনুমোদনের পর জারি হওয়া এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নতুন করছাড় ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভের ওপর ১২.৫ শতাংশ, স্বল্পমেয়াদি লাভের ওপর ৩০ শতাংশ এবং সুদের আয়ের ওপর প্রায় ২০ শতাংশ কর দিতে হয়।
অর্থ মন্ত্রকের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী কয়েক বছরে ভারতের সরকারি ঋণপত্র বাজারে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের ব্যালান্স অব পেমেন্টস ঘাটতি ৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিদেশি মূলধন প্রবাহ বাড়লে সেই ঘাটতির চাপ কিছুটা কমবে।
বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ভারতীয় সরকারি বন্ডের পরিমাণ প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা মোট উপলব্ধ ১১২.৪২ লক্ষ কোটি টাকার মাত্র ৩.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এখনও বিশাল সুযোগ রয়েছে।
ব্যালান্স অব পেমেন্টস ঘাটতি বাড়লে সাধারণত দেশের মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং টাকার মূল্য কমে যায়। চলতি বছরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও বৈদেশিক মুদ্রা বহির্গমনের কারণে টাকা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। গত এক বছরে ডলারের তুলনায় টাকা মূল্য ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। নতুন করছাড় ঘোষণার পর অবশ্য সরকারি বন্ডের ফলন কিছুটা কমেছে, যা বাজারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি সিকিউরিটি থেকে প্রাপ্ত সুদ এবং সেই সিকিউরিটির বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় থেকে হওয়া মূলধনী লাভ সম্পূর্ণ করমুক্ত হবে।
এদিকে করছাড় ঘোষণার পাশাপাশি আরবিআই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইস্যু হওয়া সমস্ত ১৫ বছর, ৩০ বছর এবং ৪০ বছরের সরকারি বন্ডকে ‘ফুলি অ্যাক্সেসিবল রুট’ -এর আওতায় আনা হবে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ভারতের ঋণপত্র বাজারকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী করা, টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারের ঋণ সংগ্রহের খরচ কমানোর ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।















