আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের কাছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে বছরে দু'বার এই ভাতা সংশোধন করে কেন্দ্র সরকার। বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী ডিএ ও ডিআর সুবিধা পান।


ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স হল কেন্দ্রীয় সরকার ও সরকারি সংস্থার কর্মচারীদের বেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূল্যস্ফীতির ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সেই চাপ কিছুটা কমাতেই এই ভাতা দেওয়া হয়। 


সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে বছরে দু'বার, সাধারণত মার্চ ও অক্টোবর মাসে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং তা যথাক্রমে জানুয়ারি ও জুলাই থেকে কার্যকর হয়।


৭ম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিএ বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়। মূল্যস্ফীতি যত বাড়ে, ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তত বাড়ে।


২০২১ সালের পর থেকে ৭ম বেতন কমিশনের অধীনে মোট ১০ বার ডিএ বৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ২ শতাংশ এবং ৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ২ শতাংশ ডিএ বাড়িয়ে তা মূল বেতনের ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।


ডিএ কি মাসিক বেতনের সঙ্গে পাওয়া যায়?
ডিএ কর্মচারীর মাসিক বেতনের অংশ হিসেবেই প্রদান করা হয়। এটি কর্মচারীর মোট সিটিসি বা বেতন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত এবং প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে জমা হয়।


ডিএ কি করযোগ্য?
এটি সম্পূর্ণরূপে আয়করযোগ্য। কর্মচারীর কর স্ল্যাব অনুযায়ী এর উপর কর দিতে হয়।


ডিএ, ডিআর এবং এইচআরএ-র মধ্যে পার্থক্য কী?
ডিএ কর্মরত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য, আর ডিআর পেনশনভোগীদের জন্য। অর্থাৎ উভয়ের উদ্দেশ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমানো হলেও সুবিধাভোগী আলাদা। অন্যদিকে এইচআরএ বাড়িভাড়ার খরচ মেটাতে দেওয়া হয়। 


জুলাইয়ে কি আবার ডিএ বাড়তে পারে?
সরকারি ভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে জুলাইয়ে আরও একটি ডিএ বৃদ্ধির জোর দাবি উঠছে। এপ্রিল ২০২৬-এ খুচরা মূল্যস্ফীতি ৩.৪৮ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৪.২০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির উপর চাপ বাড়াচ্ছে।


৮ম বেতন কমিশনের ভূমিকা
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠন করেন। কমিশনের চেয়ারপার্সন হলেন রাজন্যা প্রকাশ দেশাই। কমিশনের কাজ হল সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং পেনশন কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএ বৃদ্ধি এবং ৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ আগামী কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর আর্থিক অবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে সকলের নজর জুলাইয়ের সম্ভাব্য ডিএ ঘোষণা এবং কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

&t=1s