আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের জনসংখ্যার কাঠামো দ্রুত বদলাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেট ২০২৬ নিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের অন্যতম বড় প্রশ্ন—আয়কর ছাড়ের সীমা কি বাড়বে এবং পেনশন সংক্রান্ত সুবিধাগুলো কি আরও শক্তিশালী করা হবে?
বর্তমানে আয়কর আইনে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কিছু বিশেষ ছাড় রয়েছে। সাধারণ করদাতাদের তুলনায় তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা কিছুটা বেশি এবং অতিপ্রবীণ নাগরিকদের (৮০ বছরের ঊর্ধ্বে) জন্য আরও বেশি কর ছাড় কার্যকর। তবুও, মূল্যবৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন খরচের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে অনেক প্রবীণ নাগরিক মনে করছেন—এই ছাড় এখন আর যথেষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ২০২৬-এ সরকার যদি করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ায়, তাহলে তা প্রবীণদের আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে। পাশাপাশি, সুদের আয়ের ওপর কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি বা প্রবীণদের জন্য আলাদা কর স্ল্যাব চালুর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। এতে স্থায়ী আয় না থাকা বহু প্রবীণ নাগরিক উপকৃত হবেন।
পেনশন ব্যবস্থার দিক থেকেও বেশ কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য পেনশন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও বেসরকারি ক্ষেত্রের বহু প্রবীণ নাগরিক পর্যাপ্ত পেনশনের বাইরে রয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে বাজেট ২০২৬-এ ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো অথবা সর্বজনীন পেনশন স্কিম আরও বিস্তৃত করার দাবি জোরালো হতে পারে।
এছাড়া, প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসা খাতে ব্যয় একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। আয়ুষ্মান ভারত বা অন্যান্য স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পে প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা, কম প্রিমিয়াম বা বেশি কভারেজ দেওয়ার প্রস্তাব বাজেটে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা বিমার প্রিমিয়ামের ওপর কর ছাড়ের সীমা বাড়ানোও একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে বাস্তবতা হল, সরকারের আর্থিক সামর্থ্য, রাজস্ব ঘাটতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এসব সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। বাজেট ২০২৬ যদি সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কর ছাড় ও পেনশন সংক্রান্ত ইতিবাচক ঘোষণার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজেট ২০২৬ প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কতটা স্বস্তি বয়ে আনবে, তা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে জনসংখ্যার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে সরকারের জন্য একটি বড় নীতিগত অগ্রাধিকার—সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
