আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন কর ব্যবস্থা বহু ভুল ধারণা থেকে শুরু করে বর্তমানে বহু করদাতার জন্য ডিফল্ট বা স্বচ্ছন্দ পছন্দে রূপান্তরিত হয়েছে। বাজেট ২০২৫-এ কর সীমা বৃদ্ধি এবং রিবেট বাড়ানোর পর এটি শুধু সহজ হলেও অর্থবহও বোধ হতে শুরু করেছে। এবছর আরও বেশি মানুষ রিটার্ন ফাইলে নতুন কর ব্যবস্থাকেই বেছে নিতে পারে—এবার প্রশ্ন হচ্ছে, বাজেট ২০২৬ কীভাবে এটিকে আরও অধিক আকর্ষণীয় করা যায়?


সরকার পরিষ্কারভাবে একটি ছাড়বিহীন সিস্টেমের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবুও পুরোনো কর ব্যবস্থার গুরুত্ব পুরোপুরি কমেনি। বিশেষত প্রবীণ করদাতাদের ক্ষেত্রে—স্বাস্থ্য খরচ, বিমা খরচ বা সুদ-ভিত্তিক আয়—এই ধরনের ব্যয় ও তাদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ ছাড় এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বাজেট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে আলোচনা হচ্ছে—কিভাবে নতুন কর ব্যবস্থা আরও বাস্তববাদী করা যায়, সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ করদাতা গোষ্ঠীকে পিছনে না ফেলে?


নতুন কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অসুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হল সাধারণত ব্যবহৃত কিছু ছাড়ের অনুপস্থিতি। বর্তমানে করদাতারা শুধুমাত্র স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ও এনপিএসে নিয়োগকর্তার অবদানের মতো কিছু সীমিত ছাড়ই দাবি করতে পারেন। একই সঙ্গে মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্সের মতো সুবিধা এখন আর পাওয়া যায় না।


অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত কিছু ‘বেসিক’ ছাড় পুনরায় যোগ করলে এটি ব্যবহারে বহুল-প্রচলিত ও কার্যকরী হওয়ার পাশাপাশি নেহাতই জটিলতা বাড়াবে না। যেমন, হাউজিং রেন্টাল অ্যালাউন্স, স্বাস্থ্য-বীমার খরচ, শিক্ষা ঋণের সুদ—এই ধরনের কিছু মূল ছাড় নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করলে করদাতাদের জন্য এটি আরও প্রলোভনীয় হবে। 


বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থার সুবিধা বেশ স্পষ্ট—সাধারণ, কম জটিল, দ্রুত এবং কম কাগজপত্র। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে দেখা যায়—প্রতিটি করদাতা দলের ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক বাস্তবতা রয়েছে। বিশেষত যারা বাড়ি ভাড়া দেন, সঠিক এইচআরএ সুবিধা পান না—তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো ব্যবস্থায় কিছুটা সুবিধা ছিল। আবার যারা স্বাস্থ্য খরচে বেশি অর্থ ব্যয় করেন, তাঁরা রিপোর্ট করে পেতে পারতেন কিছু ছাড়—নতুন ব্যবস্থায় তা নেই।


এই পরিস্থিতিতে, সীমিত কিছু কাটছাঁট যুক্ত হলে নতুন কর ব্যবস্থা শুধু সহজই থাকবে না, বরং বাস্তব জীবনের খরচ ও প্রয়োজনের সাথে আরও মানানসই হবে। মধ্যবিত্ত পরিবার বা চাকরি জীবনে যারা নির্ভরশীল—এসব গ্রুপের জন্য নতুন কর ব্যবস্থা আকর্ষণীয় হওয়া দরকার।


সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজেট ২০২৬-এ নতুন কর ব্যবস্থাকে টেন্ডার, দক্ষ ও ব্যবহার-বান্ধব রাখা হবে—এটি দেখার বিষয় কীভাবে এর কার্যকারিতা বজায় রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় বা সুবিধা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা গঠন করা। করদাতারা সহজতা পায়, ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ছাড়ও গ্রহণ করতে পারে, এবং দরিদ্র ও প্রবীণগুলো পিছনে না পড়ে। নতুন কর ব্যবস্থার ভবিষ্যতই এই ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করবে—এবং বাজেট ২০২৬ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।