আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাজেট ২০২৬ ঘিরে কৃষি খাতে প্রত্যাশা এবারও অনেক। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারের অনিশ্চয়তা ও আয়ের স্থবিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে কৃষক, কৃষি শিল্প এবং নীতিনির্ধারকদের চোখ এখন কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী বাজেটের দিকে।
কৃষি মহলের প্রথম ও প্রধান দাবি—আয়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। কৃষকদের মতে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখানে সরকারি ক্রয় বাড়ানো, বিশেষ করে ডাল, তেলবীজ ও মোটা শস্যে, কৃষকদের বড় স্বস্তি দিতে পারে। পাশাপাশি এমএসপি নির্ধারণে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত মুনাফা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
দ্বিতীয় বড় প্রত্যাশা সেচ ও জল ব্যবস্থা ঘিরে। অনিয়মিত বৃষ্টি ও দীর্ঘ খরার প্রভাব কৃষিকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ২০২৬-এ মাইক্রো-ইরিগেশন, ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জল সংরক্ষণ প্রকল্প, খাল সংস্কার এবং গ্রাম পর্যায়ে রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ে জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।
তৃতীয়ত, সার ও বীজের দাম কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি সংগঠনগুলির দাবি, সারের ভর্তুকি কাঠামো আরও স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল করা হোক। পাশাপাশি দেশীয় বীজ উৎপাদন ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ালে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকদের খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
কৃষি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসারও বাজেট থেকে বড় প্রত্যাশা। ড্রোনের মাধ্যমে ফসল পর্যবেক্ষণ, মাটি পরীক্ষার ডিজিটাল রিপোর্ট, এআই ভিত্তিক আবহাওয়া ও রোগ পূর্বাভাস—এই সব প্রযুক্তিকে গ্রাম স্তরে পৌঁছে দিতে করছাড় চায় কৃষি খাত। স্টার্টআপ ও অ্যাগ্রিটেক সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবিও উঠেছে।
এছাড়াও ফসল বিমা প্রকল্পে সংস্কারের দাবি জোরালো। বহু কৃষকের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ পেতে দেরি হয় এবং প্রকৃত ক্ষতির সঙ্গে বিমার অঙ্কের ফারাক থাকে। বাজেট ২০২৬-এ যদি দাবি নিষ্পত্তি দ্রুত করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন আরও নির্ভুল করা হয়, তবে কৃষকদের আস্থা বাড়বে।
সবশেষে, কৃষি-ভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ ও গ্রামীণ গুদাম পরিকাঠামোতে বরাদ্দ বাড়লে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং কৃষক বেশি দাম পাবেন। একই সঙ্গে পুষ্টিকর ফসল ও জৈব কৃষিতে প্রণোদনা দিলে কৃষি হবে আরও টেকসই।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬ কৃষি খাতের কাছে শুধু আর্থিক বরাদ্দের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও আস্থার প্রশ্ন। সরকার যদি এই প্রত্যাশাগুলির দিকে নজর দেয়, তবে কৃষি খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারবে।
