আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে। বিশেষ করে করদাতাদের জন্য এবারের বাজেটে বড়সড় কী চমক থাকতে পারে তা নিয়ে চর্চা চলছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কি এবার বিবাহিত দম্পতিদের জন্য কর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনবেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। সূত্রের খবর, কেন্দ্র ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ বা 'যৌথ কর ব্যবস্থা'র বিকল্প নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।

'জয়েন্ট ট্যাক্সেশন' বা 'যৌথ কর ব্যবস্থা' কী?
জয়েন্ট ট্যাক্সেশন হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে স্বামী এবং স্ত্রী তাঁদের আলাদা আলাদা আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে, দু'জনে মিলে একটি যৌথ রিটার্ন জমা দিতে পারেন। বর্তমানে ভারতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র করদাতা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁদের আয়ের ওপর পৃথকভাবে কর দিতে হয়। কিন্তু এই নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে, বিবাহিত দম্পতিরা তাঁদের মোট পারিবারিক আয় একত্রিত করে ট্যাক্স ফাইল করতে পারবেন। 

ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (আইসিএআই) অর্থমন্ত্রকের কাছে 'জয়েন্ট ট্যাক্সেশন' বা 'যৌথ কর ব্যবস্থা' চালুর সুপারিশ করেছে। তবে এটা বাধ্যতামূলক হবে না, বিহবাহিত দম্পতিরা চাইলে পুরনো পদ্ধতিতেও আইটি ফাইল করতে পারবেন। এর জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্যান কার্ড থাকা আবশ্যিক হতে পারে।

বর্তমান নিয়মে কোথায় সমস্যা?
বর্তমানে ভারতে কর ব্যবস্থা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ, স্বামী এবং স্ত্রী দু'জনেই যদি আয় করেন, তবে তাদের আলাদা আলাদা স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়। সমস্যাটি প্রকট হয় সেই সব পরিবারে যেখানে মাত্র একজনই উপার্জনকারী।

- একক উপার্জনে চাপ: অনেক পরিবারে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজন চাকরি বা ব্যবসা করেন এবং অন্যজন গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলান। বর্তমান নিয়মে, যিনি আয় করছেন না, তার জন্য বরাদ্দ বেসিক ট্যাক্স এক্সেম্পশন বা কর ছাড়ের সুবিধাটি অব্যবহৃত থেকে যায়।

- কর ছাড়ের সুবিধা থেকে বঞ্চনা: পৃথক ফাইলিংয়ের কারণে, উপার্জনকারী সদস্যকে একাই পুরো আয়ের ওপর কর দিতে হয়, ফলে করের বোঝা বাড়ে। অন্যদিকের অব্যবহৃত স্ল্যাবের সুবিধা তিনি নিতে পারেন না।

বিবাহিত দম্পতিরা কীভাবে লাভবান হবেন?
যদি সরকার এই ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ ব্যবস্থা চালু করে, তবে একক উপার্জনকারী পরিবারগুলি সবথেকে বেশি লাভবান হবে। 

এই ব্যবস্থার সুবিধাগুলো হল:

- বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বৃদ্ধি: দু'জনের আয় একত্রিত হলে করমুক্ত আয়ের সীমা বা বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বেড়ে যেতে পারে। ফলে মোট আয়ের ওপর কম কর দিতে হবে।

- সাশ্রয় এবং সঞ্চয়: হোম লোন, স্বাস্থ্য বিমা এবং অন্যান্য কর ছাড়ের সুবিধাগুলি যৌথভাবে আরও ভালভাবে ব্যবহার করা যাবে। এতে বছরে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত কর সাশ্রয় হতে পারে।

- উচ্চ আয়ের সারচার্জে স্বস্তি: উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জের সীমা বাড়ানো হতে পারে, যা সরাসরি করের বোঝা কমাবে। 

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই ব্যবস্থা আছে:
ভারতে এই ধারণা নতুন হলেও, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এই পদ্ধতি দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। আমেরিকা , জার্মানি, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে বিবাহিত দম্পতিদের ‘জয়েন্ট ট্যাক্স রিটার্ন’ ফাইল করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে পরিবারকে একটি ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ বা একক হিসেবে গণ্য করা হয়।