আজকাল ওয়েবডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়া প্রতিদিন প্রায় ১০০ বিমান কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম হঠাৎই আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে এয়ার ইন্ডিয়াকে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ১০০টি করে বিমান বাতিল করতে হচ্ছে। শুক্রবার এই ঘোষণা করার পরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাই প্রভাবিত হয়েছে।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া প্রতিদিন প্রায় ১,১০০টি বিমান পরিচালনা করে থাকে। সেখানে ১০০ বিমান পরিষেবা বাতিল হওয়ার অর্থ প্রায় ১০ শতাংশ ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো, যেগুলো অনেক দূরের দেশ, সেই দেশগুলোতে বিমানের কাঁটছাঁটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ এত দূরের পথে যেতে জ্বালানী লাগে বেশি। পাশাপাশি লাভের পরিমাণও খুব একটা বেশী নয়। ফলে এই পথগুলোতে বিমান অনেক কমানো হয়েছে। 

 

দিল্লি ও মুম্বই থেকে লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্ক, টরন্টো, সান ফ্রান্সিসকো, সিডনি ও মেলবোর্ন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর রুটে চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও কাটছাঁট হবে। বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এদিকে এয়ারলাইনের মোট খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানির জন্য। সেক্ষেত্রে এই দামের বৃদ্ধি এয়ারলাইনকে লাভের মুখ দেখাবে না বিশেষ। 

 

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক সমস্যা। আমেরিকা-ইরানের সংঘাতের ফলে বহু বিমানকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হচ্ছে। ফলে বহু যাত্রায় বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পথে, বিমানের সময় ও জ্বালানি খরচ বাড়ছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স সতর্ক করেছে। এই সংগঠনে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেট এর বিমান সংস্থাগুলি রয়েছে। তাদের কথায়, সরকারি সহায়তা না পেলে আরও ফ্লাইট পরিষেবা বন্ধ হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। 

 

বিমান সংস্থাগুলো জেট ফুয়েলের উপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর কমানোর দাবি তুলেছে। যাতে বিমান সংস্থার খরচ একটু কমে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে জেট ফুয়েলের উপর কর বা শুল্ক তুলনামূলকভাবে বেশী। সরকার দেশীয় জ্বালানির দামে কিছুটা ছাড় দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রুটে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। ফলে খরচ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। 

 

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাটা গ্রুপের অধীনে এয়ার ইন্ডিয়ার পুনর্গঠন চলছে। ২০২২ সালে অধিগ্রহণের পরে এই প্রক্রিয়া হতে চলেছে দীর্ঘমেয়াদি। আন্তর্জাতিক স্তরে বিমান সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা বাড়ছে, সমান্তরালে বাড়ছে জ্বালানির দামও। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। ফলে বিমানসংস্থাগুলি আরও বিমান কমাতে পারে, অনেক জায়গায় বিমানের পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে ফেলতে পারে। 

&t=125s

জ্বালানি বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রীদের পকেটে। আন্তর্জাতিক রুটে টিকিটের দাম চরচর করে বাড়বে। ফ্লাইট কম থাকায় ভ্রমণের বিকল্প কমে যাবে। এই পরিস্থিতি শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেই ঘটছে বা ঘটতে চলেছে এমনটা নয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় সমস্ত এয়ারলাইনগুলো একই সমস্যার মুখে পড়েছে। আমেরিকা-ইরানের উত্তেজনার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে অনেক এয়ারলাইনই পরিষেবা কমানোর পরিকল্পনা করছে।