আজকাল ওয়েবডেস্ক: সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা প্রায় সব অভিভাবকেরই থাকে। পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের দরকার হয়। কিন্তু সেই অর্থ একসঙ্গে জোগাড় করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে ছোট অঙ্কে নিয়মিত বিনিয়োগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। বিশেষ করে এসআইপি পদ্ধতি ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় ফান্ড তৈরি করা সম্ভব।
ধরা যাক, কোনও অভিভাবক সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ করে এসআইপি শুরু করলেন। যদি এই বিনিয়োগ ১৮ বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া হয় এবং গড়ে বছরে ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরা হয়, তাহলে ম্যাচিউরিটির সময় মোট ফান্ড দাঁড়াতে পারে প্রায় ২২.৯৬ লক্ষ। এই উদাহরণ থেকেই বোঝা যায়, ছোট অঙ্কের নিয়মিত বিনিয়োগ কীভাবে সময়ের সঙ্গে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
এই বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে চক্রবৃদ্ধি সুদ। এখানে বিনিয়োগের উপর অর্জিত সুদ আবার মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি সুদ আয় করে। ফলে সময় যত বাড়ে, অর্থের বৃদ্ধির গতি তত দ্রুত হয়। তাই যত তাড়াতাড়ি এসআইপি শুরু করা যায়, তত বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে।
আরেকটি বড় সুবিধা হল এটি বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি কিছুটা কমায়। নিয়মিত নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগ করার ফলে বাজার যখন নিচে থাকে, তখন বেশি ইউনিট কেনা যায় এবং বাজার উপরে থাকলে কম ইউনিট কেনা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে গড় ক্রয়মূল্য কমে আসে, যা বিনিয়োগকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ করে।
শুধু তাই নয়, এসআইপি বিনিয়োগ করার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয় না। মাসে ৩,০০০-এর মতো ছোট অঙ্ক দিয়েও শুরু করা যায়। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির পক্ষেও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা সহজ হয়। এছাড়া, অটো-ডেবিট সুবিধার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, ফলে নিয়মিত বিনিয়োগে কোনও বাধা থাকে না।
তবে মনে রাখা জরুরি, এসআইপি মূলত মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে করা হয় এবং এর রিটার্ন বাজারের উপর নির্ভরশীল। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা, লক্ষ্য এবং সময়সীমা বিবেচনা করা উচিত।প্রয়োজনে কোনও আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
&t=125s
সব মিলিয়ে বলা যায় সন্তানের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি করতে চাইলে ছোট অঙ্কে নিয়মিত এসআইপি বিনিয়োগ একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়। সময়ের সঙ্গে শৃঙ্খলাপূর্ণ এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতে বড় আর্থিক নিরাপত্তা এনে দিতে পারে।















