আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ২০২৫ এর ২৭ অক্টোবর কমিশন প্রথম নোটিফিকেশন জারি করে। নভেম্বরের ৪ তারিখ শুরু হয় ফর্ম বিল প্রক্রিয়া। এরপর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু মাস। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি রবিবার শুনানির শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে কমিশনের সূত্রে খবর ৭ই ফেব্রুয়ারি নয়, বাড়তে পারে আরো দুই থেকে তিন দিন। আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জাতীয় নির্বাচন কমিশন কে।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে ভোটের দিন আগামী মার্চ মাসে বলেই কমিশন সূত্রের খবর। তবে কমিশন সূত্রে আরও খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর এক দফায় নির্বাচন চাইলেও, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এক দফায় নির্বাচনকে ততটা ভরসা করতে পারছেন না। তিন থেকে চার দফায় হতে পারে নির্বাচন অর্থাৎ ভোট প্রক্রিয়া। 

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে নজর রাখলে চিত্রটা দেখা যাবে একেবারেই আলাদা। সেই বছর নির্বাচন হয় আট দফায়।

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি বিধানসভার মধ্যে ২৯২ টি কেন্দ্রে নির্বাচন হয় আট দফায়। বাকি দুই বিধানসভায় নির্বাচন হয় সেপ্টেম্বরে, প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দুই বা তিন দফা নির্বাচন চাইলেও, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির আবেদন ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন হয় আট দফায়। যদিও বাংলার শাসক দল তৃণমূল করোনা কালে অতিমারির কারণে তিন অথবা চার দফায় নির্বাচন চেয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনওভাবে আমল না দিয়ে কেন্দ্র সরকার ও রাজ্যের বিরোধীদলের আবেদন অনুযায়ী নির্বাচন হয় ৮ দফায়। আর তাই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানুউতোর ও তরজার সুর চড়ে সপ্তমে।

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হবার আশায় এবং বাংলার মসনদে বিজেপির ক্ষমতা দখলের কারণে আট দফায় নির্বাচনের প্রধান কারণ ছিল। পাশাপাশি ২০১৬ সালেও বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল একাধিক দফায়, এক বা দুই দফায় নয়। যার মূল কারণ ছিল বিরোধীদের অত্যাধিক চাপ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপর।

যদিও সেই স্বপ্ন ব্যর্থ হয়, ভরাডুবি হয় বঙ্গ বিজেপির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে সরকার গঠনের জন্য অধিক মাত্রায় কিংবা একাধিক দফায় নির্বাচন তেমন কোনও লাভ দায়ক হয় না। বলাবাহুল্য এক বা দুই দফায় নির্বাচন অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও বিজ্ঞানসম্মত। এক দু দফায় নির্বাচন হলে যেমন আর্থিক খরচ-খরচা পরিমাণে অনেক কম হয়, পাশাপাশি নির্বাচন অনেক সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। 

বলাবাহুল্য, ভোট পর্বে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা ও ভোটকালীন হিংসা বিষয়টিকেও ভুলে গেলে চলবে না। যদিও এ নিয়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূল বিরোধী দলগুলোকেই কার্যত দায়ী করেছেন বারবার। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের কারণে ভোটের হিংসা এক বা দুই দফায় হলে পরিমাণে অনেক কম এবং শান্তির হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এমনটা মনে করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর এক দফাই নির্বাচন চাইলেও, জাতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন এক দফায় চায়না। তার কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়, এমনটা অনুমান করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যদিও রাজ্যের শাসক দল এ নিয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য না করলেও, বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এক বা দুই দফায় নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর যেমন স্পষ্ট জানিয়েছে এক দফায় নির্বাচন করতে তিনি প্রস্তুত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলিও এক দফায় বা দুই দফায় নির্বাচনকেই সম্মতি জানাচ্ছে, সূত্রের খবর। তবে সবটাই নির্ধারিত হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।