আজকাল ওয়েবডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যখন নিখুঁত অ্যালগরিদমে গান বাঁধছে বা ছবি আঁকছে, তখন একদল মানুষ মেতেছেন ‘অপ্রয়োজনীয়’ সুন্দরের সাধনায়। যান্ত্রিক উৎকর্ষের যুগে মানুষের নিজস্ব মেধা, আবেগ আর হাতের স্পর্শ যে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তা প্রমাণ করতেই শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি ও ১লা মার্চ উত্তর কলকাতার শিয়ালদা সংলগ্ন ‘গীতেন্দু ভবন’-এর ছাদে বসছে এক অনন্য আসর— ‘খামখেয়াল ২০২৬’।

খামখেয়াল ২০২৬-এর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সৃজনশীল বোধ। আয়োজকদের মতে, এআই তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের স্মৃতি, অভ্যাস ও অনুভব থেকে যে শিল্পের জন্ম, তার বিকল্প কোনও যন্ত্র আজও নেই। এই ভাবনাই গোটা আয়োজনকে আলাদা করে তুলেছে। প্রদর্শনীতে দেখা যাবে দীর্ঘদিনের সাধনায় গড়ে ওঠা নানা ব্যক্তিগত সংগ্রহ - ঘড়ি, মুদ্রা, প্রাচীন কলম থেকে শুরু করে গণেশ মূর্তির বিস্ময়কর ভাণ্ডার। মাটি, কাঠের গুঁড়ো, মাছের আঁশ কিংবা সাইকেলের চেনের মতো অপ্রচলিত উপকরণে তৈরি শিল্পকর্মগুলি মানুষের কল্পনার সীমাহীনতাকেই তুলে ধরবে। ডাকটিকিট ও ডাকবিভাগের ইতিহাসও এখানে সময়ের বিবর্তনের সাক্ষ্য হয়ে উঠবে।

হাতের ছোঁয়া ও জীবনের সুর

ডিজিটাল সৃষ্টির ভিড়ে এই আসরে থাকছে প্যাচওয়ার্ক, হাতে আঁকা ছবি ও পুনর্ব্যবহৃত উপকরণে তৈরি ভাস্কর্য - যা শিল্পে মানুষের হাতের উষ্ণতার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। শহরের পাশাপাশি বাঁকুড়ার আদিবাসী গ্রামগুলির স্বনির্ভরতার গল্পও এই মঞ্চে জায়গা পাচ্ছে।

রবীন্দ্রসঙ্গীত, জীবনের গল্পে বাঁধা বাংলা ব্যান্ডের পরিবেশনা এবং একটি বিশেষ আলোচনা 'মেয়েদের পুরুষ কথা' এই আয়োজনকে আরও সম্পূর্ণ করে তুলবে। পাশাপাশি, যাঁরা নিজেদের কণ্ঠস্বর প্রকাশের সুযোগ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য থাকছে এক মুক্ত মঞ্চ, যেখানে বিচার নয় - আছে কেবল নিজের মতো করে বলার স্বাধীনতা।

আয়োজকদের বয়ানে, “খামখেয়াল কোনও পেশাদার মেলা নয়, এটি একটি ভালবাসার ঘর। যেখানে শিল্পী ও সংগ্রাহক তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ভাগ করে নেবেন সকলের সঙ্গে।”

যাঁরা যান্ত্রিকতার ভিড়ে মানুষের মেধার জয়গান শুনতে চান, তাঁদের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ গীতেন্দু ভবনের এই ছাদ হয়ে উঠতে চলেছে এক সৃজনশীল তীর্থ। বুধু ওস্তাগর লেনে এই ভবনে দুপুর ৩টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খুলে যায় এক অন্য জগতের দরজা।