আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার গঠিত হল রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় মোট ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করলেন। সকাল ১১টা থেকে রাজভবনে রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নেন মন্ত্রীরা। শপথ গ্রহণের পর আজই হতে পারে দপ্তর বন্টন। ঘোষিত মন্ত্রী তালিকায় স্থান পেয়েছেন কয়েকজন মহিলাও।
এ দিন শপথ গ্রহণের শুরুতেই রাজ্যপাল মন্ত্রীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী, পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় নাম নেই কোনও মহিলার। তবে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তালিকায় তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন মালতি রাভা রায়। প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, শ্যামপুকুরের বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী, আউশগ্রাম কেন্দ্রের বিধায়ক কলিতা মাজি, কান্দির বিজেপি বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ এবং বলাগড়ের বিজেপি বিধায়ক সুমনা সরকার। অর্থাৎ ৩৫ জনের মধ্যে মোট ছ'জন মহিলা নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন। যদিও ৯ মে ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আরও পাঁচজন মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। সেখানে অগ্নিমিত্রা পালও মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের। অর্থাৎ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকবেন মোট সাতজন মহিলা।
মালতি রাভা রায়
কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক মালতি রাভা রায়। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তিনি সমাজসেবা ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী।
কলিতা মাজি
২০২৬ সালের নির্বাচনে অন্যতম বড় চমক কলিতা মাজি। তিনি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। বিধায়ক হওয়ার আগে তিনি মানুষের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। তাঁর জীবনযুদ্ধ এবং জয় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল স্তরের রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি আজ মন্ত্রিসভার সদস্য।
মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান দক্ষিণ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবার বিধানসভায় পা রেখেছেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর। নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক খোকন দাসকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
পূর্ণিমা চক্রবর্তী
উত্তর কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন শ্যামপুকুর থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন পূর্ণিমা। তিনি এই আসনে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজাকে পরাজিত করে বড়সড় রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছিলেন।
গার্গী দাস ঘোষ
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এ বার জয়ী গার্গী। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অপূর্ব সরকারকে ১০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এই আসনে জয়লাভ করেছেন।
সুমনা সরকার
সুমনা সরকার হুগলি জেলার সংরক্ষিত আসন বলাগড় থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। প্রায় ৪১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। পেশায় গৃহশিক্ষিকা এবং ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী বিদায় নেওয়ার পর এই আসনে সুমনা সরকার বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছেন।















