আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত ওষুধে মারাত্মক ভেজালের হদিশ মিলল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেক্টরেট অব ড্রাগস কন্ট্রোলের তরফে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘আলমন্ট-কিড সিরাপ’-এর একটি নির্দিষ্ট ব্যাচে ইথিলিন গ্লাইকল নামক অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। অবিলম্বে ওই সিরাপের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ডিরেক্টরেট সূত্রে জানা গিয়েছে, আলমন্ট-কিড একটি কাশির ওষুধ। সাধারণত শিশুদের এই ওষুধ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO), পূর্বাঞ্চল, কলকাতার পাঠানো পরীক্ষাগারের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, লেভোসেটিরিজিন ডাইহাইড্রোক্লোরাইড ও মন্টেলুকাস্ট সোডিয়াম সমন্বিত এই সিরাপটি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

যে ব্যাচটি বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত সেটির-

* ব্যাচ নম্বর: AL-24002

* উৎপাদনের তারিখ: জানুয়ারি ২০২৫

* মেয়াদ উত্তীর্ণ: ডিসেম্বর ২০২৬

* প্রস্তুতকারক সংস্থা: ট্রিডাস রেমেডিজ, হাজিপুর, বৈশালী, বিহার

ড্রাগস কন্ট্রোল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের বাড়িতে বা ফার্মেসিতে উক্ত ব্যাচের সিরাপ মজুত রয়েছে, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার বন্ধ করে নিকটবর্তী ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সাধারণ মানুষ চাইলে সরাসরি রাজ্য ড্রাগস কন্ট্রোল দপ্তরেও অভিযোগ বা তথ্য জানাতে পারবেন। অভিযোগ জানানোর জন্য ৭৯০৮০-৭৭৬১৫ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ বা tellddcwb@gmail.com-তে ইমেল করা যাবে।

রাজ্য জুড়ে সমস্ত ড্রাগ ইন্সপেক্টর ও সহকারী ডিরেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা অবিলম্বে খুচরো বিক্রেতা, পাইকার, পরিবেশক ও হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করেন এবং উক্ত ব্যাচের সব ধরনের মজুত বাজেয়াপ্ত ও ফ্রিজ করে রাখা হয়। কোনও অবস্থাতেই এই সিরাপ বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিরেক্টরেট অব ড্রাগস কন্ট্রোল জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিলিন গ্লাইকল অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি রাসায়নিক। যা শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি বিকল, স্নায়বিক সমস্যা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। ফলে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক কোনও ওষুধ ব্যবহার না করে অবিলম্বে চিকিৎসক বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।