আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলা আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটার পুটিমারী এলাকা। শনিবার দিনহাটা বিধানসভার পুটিমারী ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পরিচালিত উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মনের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছিল। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই এদিন রাস্তায় নামেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর থেকেই উপপ্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন এলাকার মানুষ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু মানুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। “কাটমানির টাকা ফেরত দিতে হবে”, “দুর্নীতির বিচার চাই” এই ধরনের স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দীর্ঘক্ষণ ধরে উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাংলা আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। কেউ টাকা না দিলে তালিকায় নাম তোলা হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। বহু দরিদ্র পরিবার ঘর পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে সেই টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উপপ্রধান। ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলেও দাবি তাঁদের। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই উপপ্রধানকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তিনি পলাতক বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
এদিনের বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান। তবে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দ্রুত কাটমানির টাকা ফেরত না দিলে আগামী দিনে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। যদিও পুরো ঘটনায় এখনও পর্যন্ত উপপ্রধান প্রিয়ঙ্কর রায় বর্মন বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
















