আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টার বাজেটে। তবে কেন্দ্রের বাজেটে কতটা খুশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, নজর থাকে সেদিকে। ভোটমুখী বাংলা বাজেট নিয়ে কতটা খুশি? 

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, শাসক দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি দিল্লি যাওয়ার আগে এই বাজেট নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন, মতামত জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও। 

 

দিল্লি যাওয়ার আগে, এদিন মমতা বলেন, 'এই বাজেট বিপথগামী, ভিশনলেস, মিশনলেস, অ্যাকশনলেস। অ্যান্টি উইমেন, অ্যান্টি পুওর, অ্যান্টি ফার্মার, অ্যান্টি ইউথ, অ্যান্টি এসসি, ওবিসি।' শুধু তাই নয়, একাধিক বিষয় তুলে ধরে মমতা বললেন, 'এই বাজেট সম্পূর্ণরূপে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)।' শেয়ার বাজার, সেনসেক্স, নিফটি ফিফটি'র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। 

 

তারপরেই আসে বাংলা বঞ্চনার প্রসঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, 'বাংলার জন্য কী দিয়েছে? কিছুই না। বড় বড় কথা বলে। কিছু দেয়নি।' ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় এই পণ্য করিডর তৈরি করার ঘোষণা করেছিলেন তিনি, সেই কথাও এদিন উল্লেখ করেন মমতা। সঙ্গেই মমতা মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকার গত বাজেটেই রাজ্যে  ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। মমতা বললেন, এই বাজেট 'মিথ্যে কথার ফুলঝুরি।' মমতা এদিন বলেন, 'ওরা জানে, ওরা বাংলায় হারবে, সেই কারণেই এসআইআর করেছে।' 

 

 

বাজেট পেশের পর একই সুর অভিষেকের গলাতেও। অভিষেক বলেন, 'আমার কাছে, এই বাজেটটি সরকারের জনসংযোগ দলের লেখা আত্ম-মূল্যায়ন প্রতিবেদন যেন। ৫,১০০ সেকেন্ডের ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী একবারের জন্যও বাংলার কথা উল্লেখ করেননি।' 

এখানেই থেমে থাকেননি অভিষেক, ঝাঁঝ বাড়িয়ে বলেন, ' ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার জন্য কিছুই নেই।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার দশ কোটি মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করছেন। বাংলার মানুষের জন্য- শ্রমিক, কৃষক, জেলে এবং যুবকদের জন্য- এই বাজেটে কিছুই নেই। তরুণদের জন্য কোনও রোডম্যাপ নেই। ডানকুনি করিডোরের প্রতিশ্রুতি আগেও দেওয়া হয়েছিল এবং আবারও তা পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। ৫,১০০ সেকেন্ডের তার ভাষণে, অর্থমন্ত্রী একবারের জন্যও বাংলার কথা বলেননি। স্কিল ইন্ডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা বলা সরকার, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কোনও রোডম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।'