আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রামে উড়ল সবুজ আবির। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রানিচক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনে জয় পেল রাজ্যের শাসক দল।
গেরুয়া রং ফিকে করে উল্লাসে মেতে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস। জয়োল্লাস থেকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে স্লোগান ওঠায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। তবে কর্মী সমর্থকদের উল্লাসে কোনও ভাটা পড়েনি। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে রাজ্য।
পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে নন্দীগ্রাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। আর তার আগে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নন্দীগ্রামে রবিবার অনুষ্ঠিত হল নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রানিচক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের নির্বাচন।
সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলে। সমবায়ের মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫টি আসনে জয়ী হন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। বাকি ৪০টি আসনে ভোট হয় রানিচক প্রসন্নকুমার শিক্ষানিকেতন (উচ্চমাধ্যমিক) বিদ্যালয়ে।
বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হয় সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই। সমবায়ে মোট ভোটার ছিল ১,০৪০ জন। সকাল থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বিকেল ৩টে থেকে শুরু হয় ভোটগণনা।
ফলাফলে দেখা যায়, ৪০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ২২টিতে। বিজেপি পেয়েছে ১৮টি আসন। এর ফলে মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে যায় ২২+৫ অর্থাৎ মোট ২৭টি আসন।
উল্লেখ্য, আগেও এই সমবায় সমিতি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই ছিল। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সবুজ আবির উড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
যদিও এই উল্লাস ঘিরেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। উল্লেখ্য, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও গন্ডগোলের ঘটনা ঘটে। তাতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরপর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, তারা ৪০টি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছিল।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিতে না পারার কারণে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির বক্তব্য, ৪০টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়ে তারা নৈতিক জয় অর্জন করেছে।
কারণ, আগেও এই সমবায় সমিতি তৃণমূলের দখলে ছিল। বিজেপির দাবি, মোট ১,০৪০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন সংখ্যালঘু ভোটার ছিলেন। তাই তৃণমূলের উল্লাসের কোনও কারণ নেই।
বিজেপি আরও দাবি করেছে, নন্দীগ্রাম জুড়ে মোট ৩৯টি সমবায় সমিতির মধ্যে ৩৬টির ভোট হয়েছে এবং তার মধ্যে অধিকাংশই বিজেপির দখলে এসেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সমবায় রাজনীতিতে তৃণমূল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
