আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিঙ্গুরে আগামী ১৮ জানুয়ারি সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, তার আগে শনিবার অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারি সিঙ্গুরেই জনসভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনটাই জানা গিয়েছে, শাসক দল সূত্রে।

হুগলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা ঘিরে আবারও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। ডানলপ শ্রমিকদের স্পষ্ট বক্তব্য এটা রাজনৈতিক ‘‌গিমিক’‌ ছাড়া কিছু নয়।

শ্রমিক মহলের প্রশ্ন, আগেও তো ডানলপ ময়দানে সভা করে গেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কারখানা খুলবে। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই সভায় যোগ দিয়েছিলেন। শুনেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য।

মোদির ভাষণে নানান সময় তাঁদের কানে এসেছে রাজ্যের নানান খামতির অভিযোগ। কিন্তু বক্তব্যে কোথাও বন্ধ ডানলপ কারখানা প্রসঙ্গে একটাও শব্দ খরচ করতে দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রীকে।

হতাশ হয়েছিল শ্রমিক মহল। তাই বর্তমানে শ্রমিক মহলের বদ্ধমূল ধারণা, শিল্প করার সদিচ্ছা নরেন্দ্র মোদির নেই। আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সভাকে ঘিরে ক্রমশ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা এবং সিঙ্গুরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানাতে ঘনঘন সিঙ্গুরে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপি নেতৃত্ব।

তবে এই সফর ও বিজেপির ‘আশার বার্তা’ নিয়ে কড়া সমালোচনায় মুখর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর সভা প্রসঙ্গে হুগলি–শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরিন্দম গুইন বলেছেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কখনওই শিল্পের বিরোধিতা করেননি। বরং তিনি বলেছেন, যারা স্বেচ্ছায় জমি দিতে চান, তাদের জমিতে শিল্প হোক। কিন্তু যাদের জমিই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, তাদের জমি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। তিন ফসলি জমিতে টাটা কারখানা গড়ার পরিকল্পনাকে সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত টাটা গোষ্ঠীর আবেদন খারিজ করে আন্দোলনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী যদি সেই রায়কে ভুল বলে ঘোষণা করেন, তবেই মানুষ বিশ্বাস করবে তিনি কৃষকদের পাশে আছেন। তাই, সেই আন্দোলন যে সঠিক ছিল–এ কথা প্রধানমন্ত্রীকে সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বীকার করতে হবে।’‌

তিনি আরও বলেছেন, সিঙ্গুরে আমন্ত্রণপত্র বিলি করার বদলে বিজেপির উচিত এসআইআর করে কতজন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই তালিকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেওয়া।

তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী সভামঞ্চ থেকেই সেই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করুক। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের এই হয়রানি নিয়ে আন্দোলনে নামবে।