আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভার মতো, সংসদেও জোড়া ফুল ভাগ হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন ব্লক। অর্থাৎ এবার সংসদের লোকসভায় কাকলি শিবির এবং অভিষেক শিবির স্পষ্ট। ২৮ সাংসদের মধ্যে, ২০জন কাকলি শিবিরে। অভিষেকের শিবিরে বাকি আটজন থাকবেন তো? জল্পনা তা নিয়েই। যদিও মহুয়া মৈত্র পোস্ট করে, কল্যাণ-কীর্তি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান দিয়েছেন, তাঁরা রয়েছেন টিম অভিষেকেই। কিন্তু নীরব সায়নী ঘোষ।

সায়নী। যাদবপুরের  তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। বাংলার রাজনীতিতে মমতা-অভিষেকের আস্থাভাজন বলেই পরিচিত। রাজনীতিতে সায়নী ধীরে ধীরে মমতার রেপ্লিকা হয়ে উঠছিলেন বলেও অনেকেই নানা সময়ে বলেছেন। সব পুরনো কমিটি ভেঙে, মমতা যুব তৃণমূলের দায়িত্ব পুনরায়  সায়নীকেই দিয়েছেন। সেই সায়নীর নীরবতা জল্পনা বাড়াচ্ছে। সোমের কয়েকদফা বৈঠকের পর, সায়নীকে নিয়ে জল্পনা বাড়ে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদদের অনেকেই সায়নীকে নিজেদের ব্লকে নিতে চান না। অনেকেই আবার একজোট হয়ে থাকার পক্ষে। কিন্তু সায়নী কী ভাবছেন? 

আজকাল ডট ইন সায়নী ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও, উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, সায়নী এই মুহূর্তে কলকাতার বাইরে রয়েছেন। তবে সেটা দিল্লিতে নয়। সায়নীর অবস্থান কী? ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ১০-১১ তারিখের পর, সায়নী নিজের মতামত প্রকাশ্যে আনতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি সায়নীর তরফে। অর্থাৎ, কোন টিমে তিনি থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা বজায় মঙ্গলেও। 

 

 সোমবার ঠিক দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে ওই চিঠি জমা পড়েছে স্পিকারের কাছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের তরফে। এদিন বেশ কয়েক জন সাংসদের সই নিয়ে ওই চিঠি জমা দেওয়া বলে খবর। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীও দেখা করেন। কিন্তু আসল চমক বাকি ছিল বিকেলে। 'যুদ্ধজয়ের' পর বিদ্রোহী সাংসদরা সকলে জড়ো হন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে। সেখানে চা-চক্রের আয়োজনও করা হয়। আর সেখানেই সটান গিয়ে হাজির হন খোদ শুভেন্দু। সকালের পর ফের বিকেলে। যা নিয়ে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজধানীতে। 

মমতার হাত ছেড়ে যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। এই অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদ রয়েছেন বিদ্রোহী ব্লকে।