আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেলা পরিষদের মঞ্চে পাশাপাশি নারায়ণ গোস্বামী এবং শঙ্কর চ্যাটার্জি। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনাতেও সেই প্রভাব স্পষ্ট। জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপির উত্থানের মধ্যেই এবার জেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা অশোকনগরের প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী এবং বারাসতের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জিকে একই মঞ্চে দেখা যাওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ৪০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বুধবার বারাসতের রবীন্দ্র ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ, বারাসতের বিধায়ক শঙ্কর-সহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের একাধিক মুহূর্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেখা যায়, নারায়ণ নিজেই শঙ্করের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও দু’জনকে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে একই সঙ্গে গাছে জল দেওয়ার দৃশ্যও নজর কেড়েছে আগত অতিথিদের।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথমবার প্রকাশ্যে বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে এতটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা গেল তৃণমূলের এই নেতাকে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভবিষ্যতে কি রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন নারায়ণ। যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল নেতা জানান, ১৯৮৬ সালের ১ মার্চ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছরের পথচলায় জেলা পরিষদ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে জেলার উন্নয়নের স্বার্থে জেলা পরিষদ গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

তবে অনুষ্ঠানে আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। নারায়ণের গলায় ছিল নীল রঙের উত্তরীয়, অন্যদিকে শঙ্করের গলায় ছিল গেরুয়া উত্তরীয়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই জল্পনা নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিধানসভা অধিবেশন চলায় বিজেপি বিধায়ক শঙ্করের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানান, পদে থাকা দু’জন মানুষ একজন নির্বাচিত বিধায়ক এবং অপরজন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। তাঁরা দু’জনেই মিলিত হয়েছেন প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে, নেতা হিসেবে নয়। তবে দল হিসেবে বিজেপি কোনও হোটেল নয়। যে যখন খুশ আসবেন, সময় হবে চেকিং করবেন, ভাল না লাগলে চলে যাবেন। সেদিন চলে গিয়েছে। ওনারা যেটা করতেন, সব সময় দলীয় নেতাদেরই শুধু নিয়ে কী সব বৈঠক হতো। এখন মানুষের জন্যই কাজ করতে হবে। পরবর্তীতে ওনাকে যদি আবার মানুষ নির্বাচিত করে আনেন তাহলে পদে থাকবেন, না হলে থাকবেন না। ফলে জেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ আপাতত রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নাকি শুধুই প্রশাসনিক সৌজন্য, তা নিয়ে চর্চা অব্যাহত রয়েছে।