অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তুরস্ককে। মাঠের খেলায় দল ব্যর্থ হলেও, গ্যালারিতে এক সমর্থকের উপস্থিতি এখন ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর নাম ‘উদি নেকো’।
2
8
গত ১৪ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের ম্যাচ চলাকালীন ক্যামেরা আচমকা ফোকাস করে তাঁর দিকে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর ছবি ও ভিডিও, আর রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান এই তুর্কি সমর্থক।
3
8
তাঁর চেহারা দেখে যে কেউ অবাক হয়ে যেতে পারে। মুখে কালো রং, সাদা চুল ও চোখের চারপাশে উজ্জ্বল সাদা রং, সঙ্গে লম্বা দাড়ি, সব মিলিয়ে রহস্যময় এক চেহারা। এই অদ্ভুত সাজের আড়ালে রয়েছে ফুটবলের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং নিজের দলের প্রতি অটুট সমর্থন।
4
8
‘উদি নেকো’র আসল নাম নেজদেত ওলচেরমান। বিশ্বকাপের সুবাদে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি পেলেও তুরস্কে তিনি বহুদিন ধরেই পরিচিত মুখ। তিনি দেশটির জনপ্রিয় ক্লাব বেসিকটাস-এর একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক। ক্লাবটির ঘরের মাঠে দলের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়।
5
8
জানা গিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচের আগে নিজেকে এই বিশেষ রূপে সাজাতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিখুঁতভাবে মেকআপ ও রংয়ের কাজ করেন তিনি।
6
8
ওলচেরমানের এই সাজের পিছনেও রয়েছে একটি প্রতীকী অর্থ। তাঁর ‘ব্ল্যাক বুল’ বা ‘কালো ষাঁড়’ রূপ শক্তি, সহনশীলতা এবং কখনও হার না মানা মানসিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
7
8
‘উদি নেকো’ নামটিরও রয়েছে আলাদা গল্প। ‘নেকো’ এসেছে তাঁর নাম নেজদেতের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে। অন্যদিকে, তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ বাজাতে পারদর্শীদের বলা হয় ‘উদি’। এই দুই শব্দ মিলিয়েই তৈরি হয়েছে তাঁর পরিচিত নাম।
8
8
ফুটবলের প্রতি তাঁর অসাধারণ ভালবাসার স্বীকৃতি হিসেবে বেসিকতাস কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাঁকে বিশেষ সম্মান দিয়েছে। তবে পেশাগত জীবনে তাঁর সঙ্গে ফুটবল বা বিনোদনের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে তিনি তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।