মনিরুল হক, কোচবিহার: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি চলাকালীন বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের পুঁটিমারি ফুলেশ্বরি এলাকায়। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে এলাকায়। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, দলের কর্মসূচি চলার সময় পরিকল্পিতভাবে বিজেপির তরফে অতর্কিত হামলা চালানো হয়, যার জেরে স্থানীয় তৃণমূলের উপপ্রধান গুরুতরভাবে জখম হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন পুঁটিমারি ফুলেশ্বরি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের পাঁচালী কর্মসূচি চলছিল। সেই কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরা হচ্ছিল। অভিযোগ, আচমকাই বিজেপির মণ্ডল সভাপতির বাড়ির দিক থেকে একদল লোক এসে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হামলায় তৃণমূলের স্থানীয় উপপ্রধান গুরুতরভাবে আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হসপিটালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। হাসপাতালে আহত উপপ্রধানকে দেখতে ছুটে যান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি আহত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। হাসপাতাল চত্বরেই তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।

তাঁর বক্তব্য, “রাজ্য সরকারের উন্নয়ন মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে বলেই বিজেপি ভয় পেয়েছে। সেই কারণেই এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে এসব ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না।” তিনি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, ঘটনার পর পুঁটিমারি ফুলেশ্বরি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার জেরে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হামলার প্রতিবাদে প্রয়োজনে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও যেতে পারে দল।