আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় বিভিন্ন বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল নেতাদের  বিভিন্ন ‘গোপন’ জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

আমজনতার ক্ষোভ এবং পুলিশের গ্রেপ্তারি এড়াতে কখনও দেখা যাচ্ছে কোনও তৃণমূল নেতা খাটের তলায় লুকোচ্ছেন। আবার কখনও শাড়ির গাদার তলায় লুকিয়ে থেকে গ্রেপ্তারি এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

রবিবার হাওড়ার আমতা এলাকায় একটি শাড়ির দোকানের শোরুমের শাড়ির গাদার তলা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে উদয়নারায়নপুরের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে।

এবার মুর্শিদাবাদেও এই ধরনের ঘটনা দেখা গেল। আমজনতার আবাস যোজনার টাকা আত্মসাৎ করে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে লুকোলেন মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এবং ওই পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মেহবুব আলম।

জানা গিয়েছে, মেহবুবের স্ত্রী রওশনারা বিবির বর্তমানে ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। মেহবুব ওই এলাকায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগ, তৃণমূলের জমানায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বহু উপভোক্তার নামে বরাদ্দ হওয়া আবাস যোজনার টাকা আত্মসাৎ করেছেন মেহবুব আলম। রাজ্যে পালাবদলের পর রবিবার রাত থেকে বহু মানুষ গিয়ে মেহবুবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

তাঁদের দাবি, তৃণমূলের জমানায় আবাস যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য তাঁরা যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তার এটিএম কার্ড, পাস বই এবং অন্যান্য অনেক নথি মেহবুব নিজের কব্জায় রেখে দিয়েছেন।

এমনকী, সেখান থেকে টাকা তোলারও অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি আবাস যোজনার বরাদ্দ টাকা না পেয়ে অনেকে মেহবুবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সামিল হন।

এলাকার পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মেহবুব আলমের বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে মেহবুব নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে কাছেই একটি সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঢুকে লুকিয়ে পড়েন।

পরে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে খুঁজে বার করে থানায় নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ধূলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবল সাহার মৃত্যুর পর মেহেবুব আলম পুরসভায় চেয়ারপার্সন পদে আসীন হয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটখাটো বিড়ির ব্যবসায়ী থেকে গত কয়েক বছরে ফুলে ফেঁপে লাল হয়ে উঠেছিলেন মেহবুব আলম। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের জমানায় বিভিন্ন উপভোক্তাদের সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

শামীম রেজা নামে ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এলাকার বাসিন্দারা যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তার সই করা চেক বই এবং এটিএম কার্ড মেহেবুবের কাছে জমা রাখতে হত। সরকারি আবাস যোজনা বা অন্য কোনও প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকলেই মেহবুব তার খবর পেয়ে যেত। চেকবই ও এটিএম কার্ড ব্যবহার করে সেই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হত। এছাড়াও আবাস যোজনায় কোনও উপভোক্তা ঘর তৈরি করলে মেহেবুবের কাছ থেকেই বালি, সিমেন্ট, রড এবং অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে হত।’

সামশেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানান, জনরোষের মুখে পড়ে মেহেবুব রবিবার রাতে বাড়ি থেকে পালান। সোমবার ভোররাতে তাঁকে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধৃতের বাড়ি থেকে প্রায় তিনশোর বেশি চেক বই, এটিএম কার্ড, আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। এত পরিমাণ নথি মেহবুবের বাড়িতে কী করে এল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ধৃতের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে সোমবার তাঁকে জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে ধূলিয়ান পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের  কাউন্সিলর দিলীপ সরকারের বিরুদ্ধেও।

সোমবার সকালে তাঁর বাড়িতে বহু মানুষ বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে দিলীপ সরকারের বাড়ি থেকে কোনও অবৈধ নথি উদ্ধার না হলেও তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাঁকে এলাকা ছাড়তে বারণ করা হয়েছে।