আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিগেডের নামে বিজেপির বিরুদ্ধে 'গুন্ডামি' ও 'বর্বরতা'র অভিযোগ তুলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। পদ্ম বাহিনীর ব্রিগেডকে 'বি গ্রেড ব়্যালি' বলে দেগে দেওয়া হল রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড ভাষণ শেষে শনিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা এবং সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। মন্ত্রী শশী পাঁজা ও তাঁর বাড়ি ও তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হন জোড়া-ফুল নেতৃত্ব।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। বলেন, “আজ ব্রিগেডে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে হুমকির সুর চড়িয়েছেন, তার প্রতিফলন আমরা হাতে-কলমে দেখতে পেলাম গিরিশ পার্কে। মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা যেভাবে ভ্যান্ডালিজম চালিয়েছে, তা অভাবনীয়।" তাঁর প্রশ্ন, "প্রধানমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত ও উদ্বেলিত হয়েই কি এই আক্রমণ?” 

বিজেপির বিরুদ্ধে গুন্ডারাজ কায়েমের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর গুজরাট দাঙ্গার সময় একজন সাংসদ খুন হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও অঙ্গরাজ্যে একজন বর্তমান মন্ত্রীর বাড়িতে এভাবে ঢিল, বোতল ও কাঁচের টুকরো নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে -  এর কোনও নজির আমরা খুঁজে পাইনি। মমতা ব্যানার্জি যখন শান্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলার বার্তা দিচ্ছেন, তখন নির্বাচনের আগে এই হুলিগানিজম শুরু করেছে বিজেপি।”

এ দিন ব্রিগেডের আগে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে কলকাতার গিরিশ পার্ক। অভিযোগ, মন্ত্রী শশী পাঁজা, তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে হা মলা চালিয়েছে গেরুয়া বাহিনী। আঘাত পেয়েছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীও। যা ভিডিও করে দেখানো হয় সাংবাদিক বৈঠকে। এ দিন সাংবাদিকদের মন্ত্রী শশী পাঁজা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। 

শশী পাঁজা বলেন, “আজকের ব্রিগেড বা বি-গ্রেড র‍্যালিতে যাওয়ার সময় চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ দিয়ে যাওয়ার পথে আমার বাড়ির সামনে তাণ্ডব চালায় বিজেপি কর্মীরা। আমাদের সহকর্মীরা যখন ফ্লেক্স লাগাচ্ছিল, তখন বাসে থাকা বিজেপির টুপি পরা গুন্ডার দল জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে হিংস্র হয়ে ওঠে।”

নিজের শারিরীক আঘাতের কথা উল্লেখ করে শশী পাঁজা আরও বলেন, “এরা মহিলা বলে কাউকে সম্মান দিতে জানে না। আমি মন্ত্রী না মহিলা- সেটা বড় কথা নয়, একজন মানুষের ওপর সরাসরি পেটে ইট মারা হয়েছে। আমার আগের অস্ত্রোপচারের জায়গায় আঘাত লেগেছে। বিজেপি আসলে খুনি আর গুন্ডা পুষছে। এতদিন জানতাম ওরা সিবিআই-ইডি দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করে, এখন দেখছি ওরা ফিজিক্যালি মেরে ফেলতে চায়।”

শশী পাঁজার কথায়, তৃণমূল কর্মীরা যখন বাড়ির সামনে ফ্লেক্স লাগাচ্ছিলেন, তখনই বিজেপির মিছিল থেকে একদল ‘গুন্ডা’ বাস থামিয়ে নেমে এসে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “বিজেপির ছাপ্পা লাগানো প্রত্যেকটি বাস থেকে বোতল, ইট, বড় বড় পাথর এবং লাঠি বের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর র‍্যালিতে যোগ দিতে আসা লোকেদের কাছে এই সমস্ত মারণাস্ত্র কেন? এরা কি র‍্যালি করতে এসেছে নাকি গুন্ডামি করতে?” 

এ দিনের সভায় মোদি 'বদলা'র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন শশী পাঁজা। তাঁর প্রশ্ন,  “রাজ্যের একজন মন্ত্রীর ওপর আক্রমণ কি সেই হিসেব নেওয়ার নিদর্শন? আপনি কি কেবল বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নাকি দেশের প্রধানমন্ত্রী?”