রিয়া পাত্র
দেবাংশু ভট্টাচার্য। ২৪-এর লোকসভা ভোটে লড়েছিলেন। ২৬-এর বিধানসভা ভোটে লড়েছেন। দু'বারই হেরেছেন যদিও। তবে ২৬-এর ভোটের পর থেকে তৃণমূলের শোচনীয় অবস্থা। দল টুকরো টুকরো। ব্লকে ভাগ হচ্ছেন বিধায়করা, সাংসদরা আবার অন্য দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটাচ্ছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তার মাঝেই জল্পনা, বিস্ফোরক মন্তব্যের পর, তাঁকে নাকি দল সরিয়ে দিয়েছে আইটি সেলের পদ থেকে। তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল দেবাংশু ভট্টাচার্যের সঙ্গে।
আইটি সেল প্রসঙ্গে দেবাংশু আগেই পোস্ট দিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিখেছিলেন, 'পার্টি ঠিক কোথায়, কোন ফেসবুক পোষ্টে, কোন প্রেস রিলিজে কিংবা কোন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছে যে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে? এসব ভুলভাল খবর যারা ছড়াচ্ছেন, রটাচ্ছেন তাদের নিশ্চই কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।' আসল বিষয় তবে কী? বলছেন, -'আমি এখন রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতিতে রয়েছি। আমি ১৫-২০ দিন আগেই জানিয়েছিলাম, আমি এখন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে রয়েছি। আমি যে বিষয়ে কাজ করছি না, সেখানে একটি পদ টানা ধরে রাখার কোনও মানে নেই। আমি নিজেই জানিয়েছিলাম, আমি এই পদে থাকতে চাই না। তারপরেই দল সিদ্ধান্ত নেয়।'
কিন্তু দলের এই ভাঙন পর্বে, তিনি নিজে কোন দিকে? দেবাংশু বলছেন, 'এখন আমি রাজনীতি থেকে স্মাওয়িক বিরতিতে রয়েছি। আমি এখন নিজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে ভাবছি। একটি দলের হার মানে তো সেই দলের নেতা-নেত্রীদের হার আসলে। আমি সেটা নিয়েই কিছুটা ভাবনা চিন্তা করছি।'
একটা সময়, অন্য দলের নেতা নেত্রীরা, বা দলবদলুরা তৃণমূলে ফিরলে, নজর ঘুরে যেত দেবাংশুর দিকে। কারণ তিনি একবার বলেছিলেন, দলবদলুরা, ফের দলে ফিরতে চাইলে, তিনি চৌকাঠে শুয়ে আটকাবেন। এখন তৃণমূলের নেতারা, অন্য ব্লকে, অন্য দলে যাচ্ছেন। এখন কী করছেন তিনি? দেবাংশু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন- 'সুদীপ ব্যানার্জীর জন্য তাপস রায়কে বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তার সভাপতিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে আলোচনা না করেই। তাপস রায় আজ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সুদীপ ব্যানার্জীও এনডিএ..
সুদীপ ব্যানার্জির জন্য সজল ঘোষরা দল থেকে বেরিয়ে গেছিল। সুদীপ ব্যানার্জীর চ্যালাদের কারসাজিতে সজল ঘোষকে দরজা ভেঙে বের করে আনা হয়েছিল, যা গোটা কলকাতা দেখেছিল! আজ সজল ঘোষ কাউন্সিলর, বিধায়ক, সম্ভবত ভবিষ্যতের মেয়রও.. আর যার জন্য এত কিছু, সেই সুদীপ এনডিএ!
দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য প্রথমে আমরা অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম ২০১৯ এ। পরে সেই দীনেশই বিজেপিতে চলে গেছিল। পরে যখন ফেরত এসেছিল, তখন পার্থ ভৌমিকের জন্য আমরা দ্বিতীয়বার অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম। আজ অর্জুন সিং বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। আর পার্থ ভৌমিকও এনডিএ..
এবং আমি আজও নিশ্চিত, দল যদি কোনওদিন ক্ষমতায় ফেরে, আবারও সুদীপ ব্যানার্জিরাই জায়গা পাবেন, রাজত্ব করবেন.. কারণ এই দল ২০১৯ থেকে শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ এর ভোটের আগে দল ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানিয়েছিল.. তখনই দলের প্রত্যেক স্তরে বার্তা চলে গেছিল, বিপদে এই দলের সঙ্গ ছাড়লেও ভালো সময় পুনরায় ফেরত আসা যায়, রাজত্বও করা যায়, নেতা হওয়া যায়... "বেঈমানরা যদি ফিরে আসে দিদির দরজায় শুয়ে তাদের প্রয়োজনে আটকাবো", একুশের ভোট প্রচার চলাকালীন এই কথা বলার পর যখন একের পর এক দলত্যাগীরা দলে ফিরেছিল সব থেকে বেশি মানষিক অত্যাচারের সম্মুখীন আমি হয়েছি সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং টেলিভিশন মিডিয়াতে। দলকে বারংবার বলেছিলাম, এদের ফেরত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না। দল তখন "পলিসি ডিসিশন"-এর দোহাই দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিল! যেকোনো মুহূর্তে এই দলের সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া যায়.. সেদিন সেই বার্তাটাই আজকের পরিণতির মূল ভিতিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।'
একইসঙ্গে তৃণমূলের একাধিক ব্লক, নব্য তৃণমূল ইত্যাদি প্রসঙ্গে দেবাংশু বলেন, 'যদি একটি মানুষও তৃণমূল করেন, দলের পতাকা নিয়ে ঘোরেন, জানবেন সেটা মমতা ব্যানার্জির জন্যই।'















