প্রকাশ মণ্ডল, আলিপুরদুয়ার: রবিবার ১৯ জানুয়ারি থেকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে বাঘ সুমারির কাজ শুরু করেন বনদপ্তর-এর কর্মীরা। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ভারত জুড়ে বিভিন্ন জঙ্গলে প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর এই সুমারি হয়। গত ২০২১-২২ সালে সর্বশেষ বাঘ সুমারি হয়েছিল। চার বছর পর ফের জঙ্গলে বাঘেদের সংখ্যা গণনা করতে আবার সুমারি শুরু করা হল।
ছয় দিন ধরে এই সুমারি চলবে। এই কাজে ২০০ জন বনকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে। বনকর্মীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলের ৮০টি জায়গায় সুমারির কাজ চালাবেন। ইতিমধ্যে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ২৫০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছে বনদপ্তর। ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা গণনা করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবন ও উত্তরবঙ্গে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসস্থান আছে। ১৯৮৩ সালে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলকে ১৫তম বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে বক্সা'র জঙ্গলে বাঘ সংরক্ষণের কাজ চলতে থাকে। ১৯৯৭ সালে এই জঙ্গলকে ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একাধিকবার বক্সার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘের দর্শন পাওয়া যায়। যা ঘিরে উচ্ছ্বসিত বন কর্তারা।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপক্ষেত্র আধিকারিক ভাস্কর শর্মা জানান, '২০২১ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছিল। জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে আমরা ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছিলাম। দুই বছর পর সেই ক্যামেরাতেই তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। আমার আশাবাদী জঙ্গলে আরও বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ আমরা পাব।'
