আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিনহাটা পুরসভায় ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় পুরসভার কর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশঙ্করের সাহেবগঞ্জ রোডের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের এই অভিযান ঘিরে দিনহাটা শহর জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে পুরসভা অফিস থেকে বের হওয়ার সময় মৌমিতা ভট্টাচার্যকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দিনহাটা পুরসভায় বেআইনিভাবে ভুয়ো প্ল্যান পাসের মাধ্যমে বড়সড় অনিয়ম চলছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ঘটনাকে নানাভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে গতি আসে। তদন্তে পুরসভার একাধিক কর্মীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার বড়বাবু জগদীশ সেন, কর্মী উত্তম চক্রবর্তী এবং মৌমিতা ভট্টাচার্য। এছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
এদিন সন্ধ্যার দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশঙ্করের বাড়িতে পৌঁছয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। বাড়ির বিভিন্ন নথি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তদন্তকারীদের অনুমান, এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগ থাকতে পারে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় দুর্নীতি চললেও প্রশাসন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে এবং তদন্তে যাঁদের নাম উঠে আসবে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরো ঘটনায় দিনহাটার সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
এদিন গ্রেপ্তার তৃণমূলের আরও দুই নেতা। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতার গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ধৃতরা হলেন সঞ্জয় মণ্ডল, মেমারি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ এবং রাজকুমার মণ্ডল, বোহার ১ নম্বর অঞ্চল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। শনিবার মেমারি থানার পুলিশ ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।















