আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিউড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ক্যারাম খেলা ঘিরে বিতর্ক। বীরভূম জেলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সিউড়ির একটি তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতরে তিন জন যুবকের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন। পাশাপাশি আরও এক জন জওয়ানকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে এবং অন্য এক জনকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। যদিও ভিডিও-র সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তবুও ওই ভাইরাল ভিডিও ঘিরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে।

ঘটনার পরই বিজেপি নেতৃত্ব কড়া ভাষায় সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এই ধরনের উপস্থিতি ও আচরণ আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

এই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ঘটনায় যুক্ত তিন জন জওয়ানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক কঠোরতার বার্তা স্পষ্ট হলেও, বিতর্ক কিন্তু থামেনি।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মতবিভাজন স্পষ্ট। একাংশের মত, জওয়ানরাও মানুষ, দিনের পর দিন কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদের। তাই সামান্য অবসরের মুহূর্তে ক্যারাম খেলা বা বিশ্রাম নেওয়াকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের মতে, এই ঘটনাকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে এবং মানবিক দিকটি উপেক্ষিত হচ্ছে।

তবে বিপরীত মতও জোরালো। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই সময়ে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাঁদের মতে, জওয়ানরা সাময়িকভাবে হলেও নিজেদের দায়িত্বের গুরুত্ব ভুলে গিয়েছিলেন বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ক্যারাম খেলা এখন নির্বাচনী আবহে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমত - দু'য়ের সংঘাতে এই ঘটনা আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।