আজকাল ওয়েবডেস্ক:  রাজ্য রাজনীতিতে এবার বড়সড় ধামাকা। বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ ডা: কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে আজ বিকেলে মধ্যমগ্রামে দলের জেলা কার্যালয়ে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের ইস্তফাপত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে আনেন তিনি।

পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের ভেতরের একাংশের বিলাসবহুল বৈভব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং ভোটের কাজে পেশাদার 'ভোট কুশলী' সংস্থার খবরদারি নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বারাসাতের এই হেভিওয়েট সাংসদ। দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে পাঠানো তাঁর খোলা চিঠিটি একপ্রকার বিস্ফোরক বললেও ভুল হয় না।

দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন:

 "মহাশয়,
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, শিষ্টাচার, এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব, মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আদর্শনিষ্ঠা ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমেই সমাজে আস্থা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে আমার মনে হয়। এই বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে আমি বারাসাত জেলা সংসদীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই। নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভূঁইফোড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।"

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ স্পষ্ট করে দেন যে, ভোটের রণকৌশল ঠিক করার নামে বাইরে থেকে আসা 'ভূঁইফোড়' সংস্থাগুলোর মাতব্বরি এবং দলের অন্দরে তৈরি হওয়া দুর্নীতি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেননি। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের আনুগত্য বজায় রেখেও তিনি সাফ জানান, দলের ভাবমূর্তি যদি আবার উজ্জ্বল করতে হয়, তবে দুর্দিনের পুরনো, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীদেরই মাঠে নামাতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই ইস্তফা এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ শাসক দলের অন্দরে যে বড়সড় কম্পন তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।