মিল্টন সেন, হুগলি, ১৮ জানুয়ারি: টানা আধঘন্টা বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বক্তব্যের কোথাও উঠলো না সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। শিল্প দূরের কথা, সিঙ্গুর প্রসঙ্গে একটাও কথা বললেন না প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যাশায় ছাই পড়ল সিঙ্গুর বাসীর। যাঁরা আশা করে ছিলেন আবার হয়তো শিল্প হবে সিঙ্গুরে। ডানলপ কারখানার শ্রমিকদের মতো একই অভিজ্ঞতা। পরিষ্কার বোঝা গেলো, রবিবার সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ছিল সম্পূর্ণই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

দীর্ঘ পনেরো কুরি দিন ধরে সিঙ্গুরে চলছিল সভার প্রস্তুতি। আর প্রস্তুতির মাঝে রাজ্য এবং জেলা বিজেপি নেতৃত্ব সিঙ্গুরবাসীকে পুনরায় শিল্প সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখান। সিঙ্গুরের সমাবেশ থেকে শিল্পের ঘোষণা হতে চলেছে। এমন প্রচার চলছিল। এদিন সভা শেষে আশাহত হলেন সিঙ্গুরের বাসিন্দারা। যদিও প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসার আগে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শিল্পের আশ্বাস। সিঙ্গুরে আবার শিল্প হবে এমন স্বপ্ন দেখাতে দেখা গিয়েছে খোদ প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও। তবে সমাবেশে সমবেত সকলেই শিল্পের সেই আশ্বাস শুনতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্য ছেয়ে আমিত্বে ভরা। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বললেন, কেন্দ্রের যাবতীয় প্রকল্প মোদির। সবই মোদির গ্যারান্টি, মোদির আশ্বাস। আর রাজ্য সরকারের খামতি নিয়ে নানান কটাক্ষ।

উপস্থিত সকলেই অপেক্ষা করছিলেন সিঙ্গুরে শিল্প সংক্রান্ত কোনও কথা প্রধানমন্ত্রী বলুক। কার্যত সেটা হলো না। প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, মন্ত্রী বেচারাম মান্না বিধায়ক করবি মান্না। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেছেন, মানুষকে মিথ্যা বলার জন্য সিঙ্গুরকে বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। শিল্প নিয়ে এতদিন যে মিথ্যাচার চালিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব, প্রধানমন্ত্রীর আচরণে তা প্রমান পেয়েছে। কারণ সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ব্যক্তি মালিকানাধীন। ফলে সেখানে কৃষকদের সম্মতি ছাড়া শিল্প সম্ভব নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী জানতেন। তাই তিনি বক্তব্যে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। সিঙ্গুরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর থেকে জানতে চেয়েছিলেন একশ দিনের কাজের টাকা কেনো বন্ধ। রাজ্যের যাবতীয় প্রাপ্য কেনো বন্ধ। মন্ত্রী বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী দাম্ভিক। কৃষকদের কোনওরকম সম্মতি ছাড়াই এক রকম জোর করেই তাঁদের জমিতে সভা করে গেলেন। ঠিক যেভাবে বাম সরকার জোর করে জমি নিয়ে শিল্প গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেলো তিনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে ভোটের প্রচারে এসেছিলেন। নরেন্দ্র মোদি একবার কেনো একশ বার এলেও সিঙ্গুরের মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না। ওদের ডবল ইঞ্জিন সরকারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।" 

এদিকে সিঙ্গুরে যখন সভামঞ্চে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখনই দু' কিলোমিটার দূরে বাজেমেলিয়া গ্রামে কৃষকরা জমিতে নেমে পড়লেন। তাঁদের পোশাকে টাঙানো ফ্লেক্স। তাতে লেখা সরকারি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা। আবাস থেকে ১০০ দিনের কাজ বাংলাকে নানা প্রকল্পে বঞ্চনা করার কথা। এদিন আবার সিঙ্গুরে কৃষি জমি রক্ষা কমিটি প্রতিবাদে মাঠে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। মোদি গো ব্যাক স্লোগান তোলে। হাতে হাত ধরে মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির উদ্দেশ্যে বার্তা দেয় সিঙ্গুর শক্ত মাটি, এই মাটিতে আঁচড় কাটা সম্ভব নয়। এদিন বিক্ষোভ নজরে পড়েছে সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া, রতনপুর ,খাসেরভেড়ি, রূপনারায়ণপুর গ্রামে। "গো ব্যাক মোদি" পোস্টারে ছেয়ে যায় গোটা এলাকা। 

 

ছবি পার্থ রাহা।