আজকাল ওয়েবডেস্ক: অধিক মুনাফার লোভে গঙ্গার জল চুরির অভিযোগ ইটভাটার বিরুদ্ধে। বেআইনি ভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে গঙ্গার চরের মাটিও। সেই মাটি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ইট। রমরমিয়ে চলছে ইটভাটা। গঙ্গার পার থেকে চরা কোনও কিছুই বাদ পড়ছে না এই অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে।
ওদিকে ওলটপালট মাটি কাটার ফলে গঙ্গার গতিপথ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গঙ্গার গতিপথ বদলে যেতে দেখা যাচ্ছে। গঙ্গার মাঝে একাধিক জায়গায় গজিয়ে উঠছে চরা। অপরদিকে গঙ্গার গতিপথ অন্যত্র বয়ে যাওয়ার ফলে ব্যাপক ভাঙনের সম্মুখীন হচ্ছে জেলার একাধিক এলাকা। ইতিমধ্যেই গঙ্গা ভাঙনে নাজেহাল হুগলি জেলার একাধিক এলাকা। বলাগড় ব্লকের একাধিক গ্রাম গঙ্গা ভাঙনের কবলে।
এরই মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়েছে একাধিক বাড়ি, চাষের জমি সহ অনেক কিছুই। ভাঙনের কবলে পড়ে গঙ্গায় বিলীন হয়েছে বলাগড়ের আস্ত মৌজা গোটাটাই। তবুও বেআইনি মাটি কাটার কাজ বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নৌকায় করে মাটি কেটে জড়ো করা হচ্ছে ইটভাটায়। রাতের অন্ধকারে দেদার চলছে মাটি কাটার কাজ। প্রশাসনের নজর পড়লে নৌকা গঙ্গা পেরিয়ে ওপারে চলে যাচ্ছে। ফলে অনায়াসেই প্রশাসনকে বোকা বানাচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ইটভাটা মালিক।
সম্প্রতি এমনই একটি ইটভাটা নজরে পড়েছে কেওটা কুলতলা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকার গঙ্গা সংলগ্ন কে বি এফ ইটভাটার বিরুদ্ধে। তাঁরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যে হলেই বেশ কয়েকটি নৌকাকে মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। নৌকায় করে মাটি কেটে এনে ইটভাটায় জড়ো করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই মাটি ব্যবহার করেই ইট তৈরি করা হচ্ছে।
তাঁদের অভিযোগ, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে এহেন বেআইনি মাটি কাটার কাজ চলছে। তাঁদের দাবি ভাটায় মজুত করে রাখা মাটির উৎস জানতে চাইলেই ওই ব্যবসায়ীর চালাকি ধরা পড়ে যাবে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ভাটা সংলগ্ন গঙ্গার পার কেটে চলেছে ওই ভাটা। সম্প্রতি পার কেটে শেষ করে ফেলার পর গঙ্গার মাঝামাঝি গজিয়ে ওঠা চরার দিকে নজর পড়েছে। তাই সেটাও কেটে ইটভাটায় মাটির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। অসাধু ওই ব্যবসায়ী বেআইনি ভাবে ভাটা সংলগ্ন অন্যের মালিকানাধীন জমি দখল করে ভাটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাধা দিলেও গায়ের জোর দেখিয়ে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয়দের। তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ককে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার সরব হয়েছেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রশাসনের মতোই ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা চালাকির কাছে তাঁকেও হার মানতে হয়েছে। বাসিন্দারা আশাবাদী একদিন হয়তো হাতেনাতে ধরা পড়বে ওই ভাটার মাটি চুরির করবার।
