আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাবা মা বিয়ের ব্যবস্থা করছে এই আশঙ্কায় সটান স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হল এক নবম শ্রেণীর ছাত্রী। পুলিশি হস্তক্ষেপে হল মীমাংসা। ছাত্রীর সাহসিকতার প্রসংশায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর সবং থানার সারতা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের আদাসিমলা দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠে। ছাত্রীর বাড়ি আদাসিমলা গ্ৰামে বিদ্যালয় থেকে এক কিমি দূরে। এদিন স্কুলে তখন সবে প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়েছে। সেই সময় শ্রেণীকক্ষ থেকে তিনজন সহপাঠীকে নিয়ে সটান প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায় নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী। প্রধানশিক্ষককে জানায় তার বাড়ি থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সে এখনই বিয়ে করতে চায় না। আরও পড়াশোনা করতে চায়। তাছাড়া বিয়ের বয়সও হয়নি। যদিও ছাত্রীর অভিভাবকরা এই অভিযোগ মানতে চাননি।
ছাত্রীর মুখ থেকে এই কথা শুনেই প্রধানশিক্ষক দ্রুত যোগাযোগ করেন বিডিও থেকে শুরু করে থানা-সহ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত পৌঁছে যায় স্কুলে। ১৫ বছরের নাবালিকা ছাত্রীর কাছ থেকে সবটা শোনে পুলিশ। তার বয়ান রেকর্ড করা হয়। তারপর ছাত্রীর বাড়িতে পুলিশ যায়। বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ এই বিষয়টি বুঝিয়ে ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না এই মর্মে বাবা ও মাকে দিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেয় পুলিশ ।
এই ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমেশ দাস বললেন, “ছাত্রীটির কাছ থেকে বিষয়টি শোনার পরেই বিডিও থেকে শুরু করে থানা-সহ চাইল্ড কেয়ার কেন্দ্রে জানাই। পুলিশ কালবিলম্ব না করে স্কুলে পৌঁছে যায়। পরে মেয়েটির বাড়িতেও যায়। পুলিশ খুবই প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। আর আমরাও আপাতত নিশ্চিন্ত বোধ করছি।”
যদিও ছাত্রীর মা খুকু পাত্র বলেন, “আমরা জানি ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যায় না। আসলে ওর পড়াশোনায় সেরকম মন নেই। বেশিরভাগ সময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। তাই রবিবার ওর বাবা মেয়কে শাসন করার সময় বিয়ে দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এছাড়া আর কিছু না। তবে ও যে বিষয়টি নিয়ে এত শোরগোল ফেলে দেবে সেটা ভাবতে পারিনি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু থাকেন। বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসেছেন। আবার ১২ জুলাই ফিরে যাবেন। মেয়ে বাড়িতে দাদু, ঠাকুমা,জেঠু-জেঠিমার সঙ্গে থাকে।















