আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইলিশের মরশুমে সাধারণত মৎস্যজীবীদের চোখ থাকে রূপোলি শস্যের দিকেই। কিন্তু এবার ইলিশের বদলে জালে উঠে এল আরও দামি এক বিরল মাছ, যা কার্যত বদলে দিল তাঁদের ভাগ্য।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৫ কুইন্টালেরও বেশি সেলে মাছ। বাজারদর অনুযায়ী এই মাছের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৫ লক্ষ টাকা। হঠাৎ এমন বিপুল পরিমাণ দামি মাছ জালে ওঠায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া মৎস্যজীবী মহলে।
জানা গিয়েছে, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া একাধিক ট্রলারের জালে একসঙ্গে ধরা পড়ে এই বিরল প্রজাতির সেলে মাছ। পরে মাছগুলি নিয়ে আসা হয় ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজারে। বাজারে পৌঁছতেই মাছ ব্যবসায়ী ও পাইকারদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ব্যাপক আগ্রহ। কারণ, এই মাছ সচরাচর বাজারে দেখা যায় না। একসঙ্গে এতগুলি সেলে মাছ ধরা পড়ার ঘটনা এলাকায় বিরল বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মৎস্যজীবীরাও।
মোট ৪০টি সেলে মাছ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি মাছের ওজন ছিল আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কেজির মধ্যে। কিছু মাছের ওজন আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণবয়স্ক সেলে মাছের ওজন সর্বাধিক ৪০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বিশাল আকারের এই মাছ শুধু বড়ই নয়, বাজারমূল্যেও অত্যন্ত চড়া।
মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, সেলে মাছের দাম বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ১৫০০ টাকা। সেই হিসেবে ৫ কুইন্টালের বেশি মাছের মোট মূল্য সহজেই ৭.৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এই মাছের দাম অনেক ক্ষেত্রেই ইলিশ মাছের দ্বিগুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে ইলিশ না পেলেও সেলে মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মুখে ফুটেছে হাসি।
কিন্তু কেন এত দাম এই মাছের? মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে মাছটির পটকায়। সেলে মাছের পটকা অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ তা বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই পটকার আন্তর্জাতিক বাজারেও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। মূলত এই কারণেই সেলে মাছের দাম এত বেশি।
এই বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী সজল খাড়া জানান, “ইলিশের বিকল্প হিসেবে এবার মৎস্যজীবীরা সেলে মাছ পেয়েছেন। এতে ওঁদের অনেক লাভ হবে। ইলিশের থেকেও এই মাছের দাম বেশি। চলতি মরশুমে এই প্রথম এত সেলে মাছ জালে উঠল। এই মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। যাদের জালে পড়ে, তাদের ভাগ্য খুলে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “এই মাছের পটকার জন্যই বাজারে এত চাহিদা। পাইকারি দরে ক্রেতারা মাছ কিনে নিয়ে যান। পরে পটকা আলাদা করে তা থেকে ওষুধ তৈরির কাজ হয়। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা।”
ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজারে মাছ দেখতে ভিড় জমায় বহু সাধারণ মানুষও। এত বড় আকৃতির মাছ একসঙ্গে দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বাজারে উপস্থিত অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই এই বিরল মাছ ঘিরে চর্চা ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।
ইলিশের মরশুমে সাধারণত আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা এবং নদী-সমুদ্রের অবস্থার উপর নির্ভর করে মৎস্যজীবীদের ভাগ্য। অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ না মিললেও অন্য প্রজাতির দামি মাছ জালে উঠে আসে। এবারের সেলে মাছ ধরা পড়ার ঘটনাও সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।
এই ঘটনার পর ডায়মন্ড হারবারের অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও আশাবাদী। তাঁদের আশা, আগামী দিনেও এমন দামি মাছ জালে উঠতে পারে, যা আর্থিকভাবে অনেকটা স্বস্তি এনে দেবে।
















