আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জিকে একটানা নিশান করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তার উত্তরে নিজের বক্তব্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধনা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর নিশানায় ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান, অধিবেশনের শেষ দিনে নতুন বিল আনা হবে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। হরিশ চ্যাটার্জি রোডের রাজপ্রাসাদে গরিবদের রাখব।
শুভেন্দু এদিন জানান, “অধিবেশনের শেষ দিনে বিল আনব। আমার স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিল আনবে। অনুমোদন মিললে সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সব নিলামে তুলব। কলকাতায় রাস্তায় যাঁরা থাকেন, ফ্লাইওভারের নীচে যাঁরা থাকে তাঁদের হরিশ চ্যাটার্জি রোডে রাজপ্রাসাদে রাখব।”
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন করেছিলেন যে, রাজ্য সরকার চার লক্ষ ৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে। কিন্তু এই টাকা আসবে কোথা থেকে? উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “টাকা কোথা থেকে আসবে? হিসেব দিচ্ছি। বীরভূমে পাথরের টাকা কোথায়? আপনার সব ল্যাম্পপোস্ট, আসলে ছিল যুবরাজ। একজন তো ভানুয়াতুতে। বুকের পাটা ছিল না। আমি প্রতিবাদ করেছি। এক বছরে বীরভমের পাথর থেকে রাজস্ব আয় ৮ কোটি। আমরা ৯ মে শপথ নেওয়ার পরে এক মাসের রাজস্ব ৮৩ কোটি। এটা ১০০ কোটি হবে। ১২ মাসে ১২০০ কোটি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আসত ১০০ কোটি। বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই।”
কালীঘাট এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ি নিয়ে বিতর্ক চলছেই। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দু'টি বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও অনুমোদন সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট দুই বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান জমা দিতে বলা হয়েছে অভিষেককে। তারপরে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস'কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কলকাতা পৌর কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৪০০(১) অনুসারে, নোটিস জারির তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের নির্দিষ্ট ঠিকানায় অবস্থিত বাড়ির অননুমোদিত অংশগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তা ভাঙা না হয়, তাহলে কেন ভাঙা হল না, তার কারণ দর্শাতে বলা হয়। এই প্রসঙ্গে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, আগে বেআইনি অংশগুলি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক তারপর উপযুক্ত জবাব দেব।" এবার তীব্র হুঁশিয়ারি দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।















