আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। ভারী বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার সকালে একাধিক জায়গায় বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে রংপো–রোরাথাং সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যাত্রী ও গাড়িচালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াত করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
রংপো–রোরাথাং সড়কে ভূমিধসের জেরে এলাকায় যানজট ও দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ওই রাস্তায় দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবারই ময়নাগুড়িতে বৃষ্টি ভেজা রাস্তাতে ঘটে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। এ দিন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি উল্লাডাবারি এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি সিএনজি বাস দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে সজরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। প্রায় ৪০ জনেরও বেশি শিশু ও মহিলা-সহ বাকিদের গুরুতর জখম অবস্থায় ময়নাগুড়ি হাসপাতাল ও জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী উদ্ধার কাজে নামে।
অন্যদিকে, টানা বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে কার্শিয়াং ব্লকের দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি ভেসে যায়। মহানন্দা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ ধসে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হয়।
কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। পাশাপাশি একটি বিশাল গাছ প্রধান সড়কের উপর উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ধস সরানো ও রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে, তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
জাতীয় সড়ক ১১০-র উপর নির্ভর করেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয় ট্রেন পরিষেবা পরিচালিত হয়। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুক্রবারের জন্য সমস্ত টয় ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, বালাসন নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহানন্দা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিস্তার জলস্তরও বাড়তে থাকে। দুধিয়া ও সংলগ্ন বালাসন তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যরাতে নদীর স্রোত আরও বেড়ে যাওয়ায় হিউম পাইপের উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে যায়। ফলে মিরিক, দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।















