আজকাল ওয়েবডেস্ক: একের পর এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ভিন রাজ্যে। এবার ঘটনাস্থল অন্ধ্রপ্রদেশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা, এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অপহরণ করে তাঁকে খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম, মঞ্জুর আলম লস্কর। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার অন্তর্গত রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়খালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর ধরে অন্ধপ্রদেশে জরি কারখানায় কাজ করতেন মঞ্জুর। কয়েক সপ্তাহ আগেই বাড়িতে এসেছিলেন। চলতি সপ্তাহে ফের অন্ধ্রপ্রদেশে কাজে যোগ দেন।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি ফোন করে জানান, মঞ্জুরকে তাঁরা তুলে নিয়ে গেছেন। ২৫ টাকা চেয়েছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য। পরিবারের তরফে ছ'হাজার টাকা তৎক্ষণাৎ দিয়েছিল। বাকি টাকা তখনও জোগাড় করতে পারেনি। পুরো টাকা না পেয়েই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা বিজেপির কর্মী বলেও অভিযোগ তুলেছে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার।
পরিবারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাংলায় কথা বলায় মঞ্জুরকে টার্গেট করেছিলেন বিজেপির কর্মীরা। কী কারণে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে, তা ঘিরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গত ডিসেম্বরে বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে ফের হেনস্থা করা হয়েছিল। আবারও বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে ভয়ঙ্কর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিক।
আহত শ্রমিকের নাম, আতিউর রহমান। তিনি মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আতিউরের বাবা আমির হোসেন জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে ওড়িশার সম্বলপুরে রাজমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করছিলেন আতিউর। সেখানেই বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি সন্দেহে দুষ্কৃতীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। আহত আতিউরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরই এক সহকর্মী। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সহকর্মীরাই আহত আতিউরকে মালদহে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা।
ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশা স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর হাতে মার খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে এক যুবকের। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগে ফের একবার ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের চার পরিযায়ী শ্রমিককে ধরার পর, তাঁদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। পরবর্তীকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা উদ্ধার পেলেও প্রাণহানির আশঙ্কায় তাঁর আর ওড়িশায় থাকেননি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বেলডাঙ্গা বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা, ওই চার পরিযায়ী শ্রমিক ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ফিরে এসেছেন। মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ঝারসুগুদা জেলার একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে।
