আজকাল ওয়েবডেস্ক: মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারকে এস আই আর (SIR)-এর পক্ষ থেকে হিয়ারিংয়ের জন্য তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ও তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই শুনানির ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্ধারিত দিনে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বলা হয়েছে সাংসদকে।
ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দেব এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের পর এ বার নোটিশ গেল মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কাছে। এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইও দপ্তরে তৃণমূলের যে প্রতিনিধিদল বার কয়েক গিয়েছে, সেই দলে ছিলেন বাপি হালদার। রবিবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের ডাকার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে কমিশন। তারা বিজেপির কথা মতো কাজ করছে। এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। তিনি বলেন,আমাদের অনেক সাংসদকে এ ভাবে ডাকা হচ্ছে। যেখানে মাউসের একটি ক্লিকে জনপ্রতিনিধিদের সমস্ত তথ্য জানা যায়, সেখানে এগুলো করা হচ্ছে কেন? শুধুমাত্র ভয় দেখাতে।’
তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করতে চাইছে কমিশন। তিনি তফসিলি জনজাতির প্রতিনিধি। তাঁদের হয়রানি করাই কমিশনের উদ্দেশ্য। বাপি হালাদার বলেন, কিন্তু তৃণমূলকে এ ভাবে হয়রান করতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত।উল্লেখ্য, সম্প্রতি মথুরাপুর সহ ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর ও মগরাহাট এলাকায় এস আই আর সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে দেখা গেছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই আবহেই একজন বর্তমান সাংসদকে হেয়ারিংয়ের নোটিশ পাঠানোয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিরোধীদের বক্তব্য, এস আই আর-এর তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি এবং কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মাত্র, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
এস আই আর-এর হেয়ারিংয়ের ডাক পাওয়ার পর মথুরাপুর লোকসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন নজর রয়েছে, শুনানির পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা পড়ে।
